ভুক্তভোগী নারীর করা মামলার পর ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে দাগনভূঞা থানা পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর দাগনভূঞায় এক দম্পতিকে জিম্মি করে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তথ্য ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা মো. মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দাগনভূঞা পৌর এলাকায় পৌঁছানোর পর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটির চার্জ শেষ হয়ে যায়। পরে তারা ফাজিলের ঘাট রোডের জুয়েলের গ্যারেজে অটোরিকশাটি চার্জ দেওয়ার জন্য রাখেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় কয়েকজন স্থানীয় যুবক দম্পতিকে ঘিরে ধরে হয়রানি শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের জোর করে জগতপুরের ফাতেমা মঞ্জিলের বিপরীতে থাকা পরেশ স্টোরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাসুদকে বেঁধে রাখা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর তাঁর স্ত্রীকে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজনের মুঠোফোনে কল আসায় সে সরে গেলে ওই নারী সুযোগ বুঝে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান।
পরে ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা মাসুদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
ঘটনার পর শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশোধিত বিধান এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। মামলার পর এসআই মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জগতপুর ভূঞা বাড়ির মো. সিরাজের ছেলে মো. রাশেদ প্রকাশ রাজ (১৯), বেলাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯), উত্তর করিমপুরের গোলাম মাওলা মাসুদের ছেলে মো. শাহরিয়ার নোমান (১৯), আমানউল্লাহপুরের জাবেদ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (২১) এবং মো. হারুনের ছেলে শাহিন উদ্দিন মুন্না (২৯)।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
ফেনী দাগনভূঞা
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!