ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত এবং সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ বিক্রি বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার ফকিরের তকেয়া মোড় এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।
অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে কৃষকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের কাছে ঘুরেও অনেক কৃষক প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের প্রশ্ন, সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে সংকট দেখা দিচ্ছে কেন।
কৃষকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ডিলার ও পাইকারি ব্যবসায়ী সার মজুত করে রাখায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে কৃষকদের কাছে নিয়ম অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মহাসড়ক অবরোধের ফলে রংপুর-কুড়িগ্রাম সড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের পাশাপাশি সড়কে আটকে থাকা রোগীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মকর্তারা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর আগের দিন রোববার জেলার বিভিন্ন এলাকায় সার সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে কৃষকরা বিক্ষোভ করেন। পরে অভিযানে অবৈধভাবে সার মজুত ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে একজন ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনিতা দাস বলেন, জেলায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সারের সংকট নেই এবং সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী সার আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কিংবা নির্ধারিত দামের বেশি দামে বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!