আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ছবি: সংগৃহীত
মাদ্রিদ ডার্বিতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হারের পর রিয়াল মাদ্রিদকে ঘিরে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। হারের ফলে সাত ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে হোসে মরিনিওর দল। ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান এখন ৬ পয়েন্ট। আতলেতিকো ও রিয়াল বেতিসের পয়েন্ট ১৬ করে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রিয়ালের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। ডিন হুইসেন লাল কার্ড দেখার পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় মাদ্রিদের ক্লাবটি। এরপর আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোর পেনাল্টি ও জোনাথন ডেভিডের গোলে এগিয়ে যায় আতলেতিকো। শেষ দিকে আন্তোনিও রুডিগার একটি গোল করলেও ম্যাচে সমতা ফেরাতে পারেনি রিয়াল।
পরাজয়ের পর অবশ্য দলের লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে প্রকাশ্যে হতাশা দেখাননি মরিনিও। বরং ম্যাচের বেশ কয়েকটি রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। রিয়াল কোচের দাবি, ম্যাচে আতলেতিকোর আরও একটি লাল কার্ড দেখা উচিত ছিল। এ নিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনেও নিজের আপত্তি জানান।
তবে স্প্যানিশ ফুটবল বিশ্লেষকদের আলোচনায় শুধু রেফারিং নয়, রিয়ালের সামগ্রিক পারফরম্যান্সও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে দলের রক্ষণ, মাঠে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং আক্রমণভাগের তারকাদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাচে রিয়ালের আক্রমণভাগও প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি; কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিউস জুনিয়রকে বেশির ভাগ সময়ই নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল আতলেতিকোর রক্ষণ।
রিয়ালের সাবেক ও বর্তমান বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সমস্যাগুলো কেবল ডার্বির ৯০ মিনিটে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে দলের খেলায় একই ধরনের দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তারা। ফ্রান গারিদো রিয়ালের পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় গোলের সময় রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের অবস্থান নিয়ে তাঁর সমালোচনা ছিল তীব্র।
আলভারো বেনিতোর মন্তব্যেও উঠে এসেছে একই ধরনের উদ্বেগ। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে একই সমস্যা দেখা গেলে সেটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খেলোয়াড় পরিবর্তনের পরও যদি একই ধরনের দুর্বলতা থেকে যায়, তাহলে সমস্যার গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে মনে করেন তিনি।
ডার্বিতে বদলি ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় এসেছে। হুইসেনের লাল কার্ডের পর মরিনিও ভিনিসিউস জুনিয়র ও আরদা গুলেরকে তুলে ইয়ান দিয়োমান্দে ও রুডিগারকে মাঠে নামান। তবে ১০ জনের রিয়ালকে ম্যাচে ফেরানোর মতো প্রভাব তৈরি করতে পারেনি এই পরিবর্তন।
এদিকে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষক হাভি এরাইস। তাঁর মতে, ফরাসি ফরোয়ার্ডের মাঠে আরও বেশি সক্রিয় থাকা প্রয়োজন ছিল। অপ্টার পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, এমবাপ্পে ম্যাচে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছেন।
সাত ম্যাচ শেষে তাই শিরোপার দৌড়ে রিয়ালের সামনে ব্যবধান কমানোর চাপ বেড়েছে। বার্সেলোনা এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচেই জয় পেয়েছে এবং ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। বিপরীতে রিয়ালের দুটি পরাজয় দলটির অবস্থানকে আরও চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!