কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়ে মিনিয়াপলিস শহর
অভিবাসীবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মানুষ। শনিবার ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল, নো শপিং’ কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়ে রাজ্যটির মিনিয়াপলিস শহর। ট্রাম্প সরকারের অভিবাসন কর্মসূচিকে জাতিগত বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রতিশোধ বলে মন্তব্য করেছেন শহরটির মেয়র। অভিবাসন বিরোধী অভিযানে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস শহর। তীব্র সমালোচনার মাঝেও আটক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিতর্কিত অভিবাসন পুলিশ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট- আইসিই। অভিযানে প্রায় প্রতিদিনই আটক করা হচ্ছে অভিবাসীদের। খবর সিএনএনের।
নতুন করে একটি গাড়ি আটকানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, চালককে গাড়ি থেকে জোর করে নামিয়ে মাটিতে ফেলে দেন আইসিই কর্মকর্তারা। এ সময় তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা আটকে দেন পথচারীরা। প্রতিবাদের মুখে পরে ওই চালককে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় আইসিই। এর আগে অভিবাসীবিরোধী অভিযানকালে গত মঙ্গলবার পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু এবং তার বাবাকে আটক করে অভিবাসন পুলিশ আইসিই। এ ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসী, শিক্ষা প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। লিয়াম কোনেজো রামোস নামের শিশুটি কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থী।
স্কুলের সুপারিনটেন্ডেন্ট জেনা স্টেনভিক বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল থেকে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিল লিয়াম। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই লিয়ামকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে নেন আইসিই কর্মকর্তারা। আইসিইর এই ধরপাকড়ের প্রতিবাদে স্থানীয় সময় শুক্রবার মিনেসোটার অন্যতম প্রধান শহর মিনিয়াপলিসে অর্থনৈতিক ধর্মঘটের ডাক দেন কমিউনিটি, ধর্মীয় ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। তাদের ডাকে শুরু হয় ডে অব ট্রুথ অ্যান্ড ফ্রিডম কর্মসূচি। আইসিইকে মিনেসোটা ছাড়ার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি আইসিইর গুলিতে নিহত নারী রেনি গুডের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি তোলেন তারা।
গত ৭ জানুয়ারি অভিযান চালাতে গিয়ে ওই মার্কিন নারীকে তার গাড়ির ভেতর গুলি করে হত্যা করে এক আইসিই সদস্য। এছাড়া আইসিইর জন্য অতিরিক্ত ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করার পাশাপাশি মানবাধিকার ও সাংবিধানিক লঙ্ঘনের অভিযোগে সংস্থাটির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। এদিন প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে বন্ধ থাকে কয়েকশ’ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কর্মবিরতি পালন করেন হাজারো মানুষ।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!