নীলফামারী বড় বাজার জামে মসজিদ ও বিতর্কিত দোকানঘর (ফাইল ছবি)
নীলফামারী-২ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আল ফারুক আব্দুল লতিফ ও সাবেক জামায়াত নেতা মো. মনিরুজ্জামান মন্টুর বিরুদ্ধে মসজিদের দোকানঘর নিয়ে বেআইনী কারসাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, পরস্পর যোগসাজশে তারা মসজিদের ভাড়াকৃত সম্পত্তি প্রতারণার মাধ্যমে ক্রয়ের চেষ্টা করেছেন, যা বিদ্যমান চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন।
মসজিদ কমিটির নথি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১ জুলাই নীলফামারী বড় বাজার জামে মসজিদের একটি দোকানঘর মনিরুজ্জামান মন্টু ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত ও মাসিক ২ হাজার টাকা ভাড়ায় নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ভাড়া নেন। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—দোকানঘর বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কাউকে ভাড়া দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি প্রতি দুই বছর অন্তর ভাড়া বাড়ানোর অধিকার সংরক্ষিত ছিল মসজিদ কমিটির।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব শর্ত উপেক্ষা করে ২০২২ সালের ১০ মার্চ মনিরুজ্জামান মন্টু ও আল ফারুক আব্দুল লতিফের মধ্যে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় হলফনামার মাধ্যমে দোকানঘর ‘ক্রয়-বিক্রয়’ করা হয়। মসজিদ কমিটির দাবি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিয়ে এটি ছিল সুস্পষ্ট বেআইনী উদ্যোগ।
চুক্তিভঙ্গের প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৩ জুলাই মসজিদ কমিটি মনিরুজ্জামান মন্টুকে জামানতের টাকা ফেরত নেওয়ার নোটিশ দেয় এবং দোকান বরাদ্দে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করে। তবে টেন্ডার কার্যক্রম বন্ধ করতে আল ফারুক আব্দুল লতিফ নিজেই বাদী হয়ে নীলফামারী সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-৩৫০/২০২২) দায়ের করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ শুধু আইনি নয়, নৈতিকভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
নীলফামারী-২ নির্বাচন মসজিদের সম্পত্তি জামায়াত প্রার্থী বিতর্ক
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!