যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬,৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

নীলফামারীতে সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকির অভিযোগ ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট না দিলে থানায় দেওয়ার ভয়—ফোনালাপ ঘিরে উত্তেজনা

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭ PM

১৩৭
নীলফামারীতে সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকির অভিযোগ ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট না দিলে থানায় দেওয়ার ভয়—ফোনালাপ ঘিরে উত্তেজনা

‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট না দিলে থানায় দেওয়ার ভয়, পরিচয় দিলেন ‘রাফিক’ নামে এক ব্যক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারী

নীলফামারী-২ (সদর) আসনে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ভোটারকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া তপশ কুমার সাহা, হাজী মহসিন সড়ক, ১নং ওয়ার্ড পৌরসভা, সদর, নীলফামারী—দাবি করেন, তাকে অজ্ঞাত পরিচয়ে ফোন করে দ্রুত ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিতে বলা হয়। তিনি কলদাতার পরিচয় জানতে চাইলে প্রথমে এড়িয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাকে ‘থানায় দেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, +৮৮০১৭৫১৩৭৩২৭৩ নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে ‘রাফিক’ নামে পরিচয় দেন এক ব্যক্তি। তিনি কথোপকথনের সময় নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং আপত্তি জানালে হুমকিমূলক ভাষায় কথা বলেন। এমনকি কল রেকর্ড করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

ফোনালাপের এক পর্যায়ে কলদাতা বলেন, “তোমার নম্বর আমি থানায় দেবো, ব্যবস্থা নেবো”—এমন বক্তব্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাদের মতে, “ভোট দেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অধিকার। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভোট আদায়ের চেষ্টা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “কোনো ভোটারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো ভোটারকে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট প্রার্থী বা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সুশাসন ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে নীলফামারী-২ আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

Nilphamari Sadar

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!