টিসিবির ট্রাকে পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন ক্রেতারা। ছবি : সংগৃহীত
নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে চাপে পড়া নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি হয়ে উঠেছে Trading Corporation of Bangladesh (টিসিবি)-র ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেল। তবে সেই স্বস্তি পেতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে ধাক্কাধাক্কি, তর্ক-বিতর্ক এমনকি বিশৃঙ্খলার ঘটনাও।
দক্ষিণ ঢাকার কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকেই এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল ১১টার আগেই Trading Corporation of Bangladesh-এর ট্রাক পৌঁছাতেই লাইনে জায়গা নিতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে।
বর্তমানে একটি প্যাকেজে দুই লিটার ভোজ্যতেল, এক কেজি চিনি এবং দুই কেজি মসুর ডাল বিক্রি করছে Trading Corporation of Bangladesh। এতে মূল্য পড়ছে ৪৮০ টাকা। অথচ বাজারদর অনুযায়ী একই পণ্য কিনতে খরচ হয় প্রায় ৬৬৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি প্যাকেজে একজন ক্রেতা সাশ্রয় করছেন ১৮৫ টাকা।
তবে সমস্যা হলো, প্রতিটি ট্রাকে মাত্র ৪০০ জনের জন্য পণ্য বরাদ্দ থাকায় অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরছেন।
লাইনে দাঁড়ানো মো. নবী হোসেন বলেন, আগের দিন পণ্য না পাওয়ায় এবার বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। ধাক্কাধাক্কি হলেও কম দামে পণ্য কেনার আশায় অপেক্ষা করছেন তিনি।
আরেক ক্রেতা মো. দেলোয়ার মিয়া বলেন, বাজারের উচ্চমূল্যের কারণে টিসিবির পণ্য কিনে যে টাকা বাঁচছে, তা দিয়ে পরিবারের অন্য প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে।
রায়েরবাগ থেকে আসা রিজিয়া পারভিন অভিযোগ করে বলেন, কোথায় কখন ট্রাক আসবে—এ তথ্য আগে থেকে জানা না থাকায় ভোগান্তি আরও বাড়ছে। একই অভিযোগ করেন তার প্রতিবেশী ফাতেমা খাতুনও।
Trading Corporation of Bangladesh জানিয়েছে, পবিত্র Eid al-Adha উপলক্ষে ১১ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এই সময়ে ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষের কাছে ১৩ হাজার ৯৩৯ টন পণ্য পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিলাররা জানিয়েছেন, সীমিত বরাদ্দের কারণে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যেই সব পণ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ ক্রেতার সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় অনেককে ফেরত যেতে হচ্ছে।
Consumers Association of Bangladesh-এর সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ট্রাকসেল ভালো উদ্যোগ হলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কারসাজি বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই ধরনের কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!