যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬,৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

নীলফামারী–২ আসনে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও জামায়াতের তাণ্ডবের অভিযোগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শঙ্কা

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২৬ PM

২১৫
নীলফামারী–২ আসনে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও জামায়াতের তাণ্ডবের অভিযোগ, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শঙ্কা

নীলফামারী–২ আসনে প্রশাসনিক চাপ ও জামায়াত ইসলামী কর্মীদের সহিংসতার অভিযোগ তুলে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে নীলফামারী–২ আসনে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহরিন ইসলাম। প্রশাসনের একাংশের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা এবং জামায়াত ইসলামী সমর্থিত কর্মীদের সহিংস কর্মকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রোববার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে শাহরিন ইসলাম দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই তার নেতাকর্মীদের টার্গেট করে প্রশাসনিক চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জামায়াত ইসলামী কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিএনপির প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালিয়ে এলেও পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের সদস্যরা রাতের আঁধারে বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিদের বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে হুমকি দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে শাহরিন ইসলাম সবুজ নিশানকে বলেন,

“প্রশাসনের লোকজন রাতের অন্ধকারে আমার কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখাচ্ছেন। ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই নিরপেক্ষ প্রশাসনের আচরণ হতে পারে না।”

তিনি আরও জানান, ইটখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকির, চড়াইখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম রেজা এবং খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রশান্ত রায়ের বাড়িতে পৃথক পৃথক সময়ে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা গিয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত না থাকার জন্য চাপ দিয়েছেন।

শুধু প্রশাসনিক চাপ নয়, জামায়াত ইসলামী সমর্থিত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের কর্মীদের বিরুদ্ধেও সহিংসতার অভিযোগ তোলেন বিএনপি প্রার্থী। তার দাবি, রাতের বেলায় নীলফামারী সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা এবং আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হিসেবে তিনি জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু ভোটারদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে

শাহরিন ইসলাম বলেন,

“সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের নীরবতা এই সন্ত্রাসকে আরও উৎসাহিত করছে।”

স্থানীয় বিএনপি নেতারাও অভিযোগ করেন, জামায়াত ইসলামী কর্মীদের দ্বারা বিএনপির নেতাকর্মীরা বারবার নির্যাতনের শিকার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, ফলে এলাকায় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি

তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে নীলফামারী–২ আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জে পড়বে

নীলফামারী–২ নির্বাচন বিএনপি প্রার্থীর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ অভিযোগ জামায়াত সহিংসতা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!