নীলফামারীর টেক্সটাইল বাজারে এ্যাব আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় হামলা ও বাধার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বিরুদ্ধে।
নীলফামারী–২ আসনের নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বিরুদ্ধে। অ্যাসোসিয়েশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত এক শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পথসভায় হামলা, হুমকি ও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নীলফামারীর সংগলশী ইউনিয়নের টেক্সটাইল বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকদের অভিযোগ, ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনের সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য চলাকালে জামায়াতের স্থানীয় একদল নেতাকর্মী লাঠিসোটা হাতে সভাস্থলে অতর্কিতভাবে উপস্থিত হয়ে হামলা চালায়। তারা সভায় অংশ নেওয়া বক্তা, শিল্পী ও উপস্থিত সাধারণ মানুষের প্রতি ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে।
এক পর্যায়ে হামলাকারীরা মঞ্চে উঠে বক্তাদের হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেয় এবং উপস্থিত পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সভাস্থলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথসভাটি কার্যত ভেঙে যায়।
ভুক্তভোগী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন সবুজ নিশানকে বলেন,
“আমার পক্ষে একটি শান্তিপূর্ণ পথসভা চলছিল। সেখানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মাইক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মানুষকে ভয় দেখানো হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা। আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, কিন্তু সন্ত্রাস দিয়ে ভোটের মাঠ দখল করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
এ্যাব নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াত ইসলামী সমর্থিত একটি চক্র নিয়মিতভাবে শাহরিন ইসলাম তুহিনের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি এবং কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করছে।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অ্যাসোসিয়েশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর এক নেতা বলেন,
“পেশাজীবীদের একটি শান্তিপূর্ণ সভায় এমন উগ্র আচরণ প্রমাণ করে জামায়াত কর্মীরা নির্বাচনী মাঠকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তারা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। পোস্টার ছেঁড়া, পথসভা বন্ধের চেষ্টা—এসব তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ ধরনের হামলা ও হুমকির কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এতে করে নীলফামারী–২ আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নীলফামারী–২ নির্বাচন এ্যাব পথসভায় হামলা জামায়াত কর্মীদের সহিংসতার অভিযোগ
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!