যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬,৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

রাজধানীতে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ধীরগতি, অধরাই মূলহোতারা

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ১২:২৮ PM

রাজধানীতে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ধীরগতি, অধরাই মূলহোতারা

রাজধানীতে প্রকাশ্যে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডে বাড়ছে জনমনে আতঙ্ক। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে একের পর এক আলোচিত প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড জনমনে আতঙ্ক তৈরি করলেও, এসব ঘটনার তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় বাড়ছে উদ্বেগ। গত ছয় মাসে ঢাকায় সংঘটিত কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে কিছু শুটার ও সহযোগী গ্রেপ্তার হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মূল পরিকল্পনাকারীরা। ফলে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার Dhaka National Medical Institute Hospital-এর সামনে দিনের আলোতে গুলিতে নিহত হন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন। শত মানুষের উপস্থিতিতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই শুটারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পলাতক সন্ত্রাসী ‘ভাইগ্না রনি’ এখনও অধরা।

এর এক সপ্তাহ পর রাজধানীর Pallabi এলাকায় দোকানের ভেতরে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি Karwan Bazar এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে। তদন্তকারীরা বলছেন, প্রায় ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং এর নেপথ্যে পলাতক সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

সবশেষ গত ২৯ এপ্রিল New Market এলাকায় গুলিতে নিহত হন আরেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। তবে এ ঘটনায়ও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত রাজধানীতে মোট ১২৫টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকাশ্য গুলির ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

Dhaka Metropolitan Police-এর গোয়েন্দা বিভাগ বলছে, এসব স্পর্শকাতর মামলায় তদন্ত চলছে। তবে অনেক আসামি আত্মগোপনে থাকায় তদন্ত শেষ করতে সময় লাগছে।

অপরাধ বিশ্লেষক Dr. Touhidul Haque বলেন, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া, দুর্বল নজরদারি এবং মূলহোতাদের ধরতে ব্যর্থতা—এসব কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত তদন্ত শেষ করে মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে রাজধানীতে সংগঠিত অপরাধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!