যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ২০২৬,২৩ চৈত্র ১৪৩২

দুই বছর পর সীমিত পরিসরে গাজাবাসীর জন্য রাফাহ সীমান্ত খুলছে ইসরায়েল

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০২ PM

৪৫
দুই বছর পর সীমিত পরিসরে গাজাবাসীর জন্য রাফাহ সীমান্ত খুলছে ইসরায়েল

গাজাবাসীর জন্য রাফাহ সীমান্ত খুলে দিচ্ছে ইসরায়েল। ছবি : সংগৃহীত

প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গাজাবাসীর জন্য রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলতে যাচ্ছে ইসরায়েল। আগামী রোববার থেকে সীমিত পরিসরে এই সীমান্ত দিয়ে মানুষের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা সিওগ্যাট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—মিসরের সঙ্গে গাজাকে সংযুক্ত করা রাফাহ সীমান্ত দিয়ে আপাতত অল্পসংখ্যক মানুষের যাতায়াত অনুমোদিত হবে।

রাফাহ ক্রসিং গাজা উপত্যকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশদ্বার। দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্ত বন্ধ থাকায় গাজায় প্রায় ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশে বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। গাজায় মানবিক সংকট মোকাবিলায় এই সীমান্তকেই প্রধান লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও চুক্তিতে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি। চলতি সপ্তাহে গাজায় আটক থাকা শেষ ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ হস্তান্তরের মাধ্যমে চুক্তির প্রথম ধাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সম্পন্ন হয়েছে।

এরপর হামাস এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির সব শর্ত পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে রাফাহ সীমান্ত উভয় দিক থেকে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই খুলে দেওয়ার দাবি তোলে।

তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, সীমান্তটির ওপর তারা কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। সিওগ্যাটের বিবৃতিতে বলা হয়, মিসরের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ইসরায়েলের পূর্বানুমোদিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরই সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত সম্ভব হবে। এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের তত্ত্বাবধানও থাকবে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ব্যবস্থার অনুরূপ।

এছাড়া যুদ্ধ চলাকালে গাজা থেকে মিসরে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে যারা ফিরতে চান, তাদেরও ইসরায়েলের নিরাপত্তা যাচাই এবং মিসরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করিডোর ব্যবহার করে গাজায় প্রবেশ করতে হবে। ওই করিডোরে অতিরিক্ত পরিচয় শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

রাফাহ সীমান্ত গাজা সংকট ইসরায়েল হামাস যুদ্ধবিরতি গাজা মানবিক সহায়তা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!