ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে বিতর্ক থামছে না; বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও জটিল আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নতুন করে ২৬০ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আবারও আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-এর একাধিক সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৩১ জনকে মুক্তিযোদ্ধা থেকে ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পুনঃশ্রেণিবিন্যাস করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মোট ১১টি সভায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন তালিকা পর্যালোচনা করা হয়। এসব সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন গেজেট প্রকাশ, পুরোনো গেজেট বাতিল ও সংশোধন করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, সরকার মেয়াদের শেষদিকে দ্রুতগতিতে গেজেট প্রকাশের ঘটনা নজরে আসে। এর মধ্যে শেষ পর্যায়ে এসে একসঙ্গে ১৯১ জনের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সময়ে লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে ৩৯৬ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে এবং ২৫ জনকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৬৯ জনের গেজেট নিয়মিতকরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সংশোধন এনে ১২৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা থেকে ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশের আওতায় আরও ৪০ জনকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ বলছেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মতামত ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর কর্মকর্তারা জানান, যথাযথ নথিপত্র যাচাই করেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় তালিকা নিয়ে কিছু অসঙ্গতির বিষয়ও তারা স্বীকার করেছেন।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেকেই আবেদন করার পাশাপাশি তদবির করেন, তবে সব আবেদনই যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এদিকে সমালোচকদের দাবি, সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে বিপুলসংখ্যক গেজেট প্রকাশের পেছনে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা মনে করেন, এই প্রক্রিয়া নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলে আরও নির্ভুল যাচাই সম্ভব হতো।
উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধার গেজেট প্রকাশ, সংশোধন ও বাতিল করা হয়েছে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে বিতর্ক বারবার সামনে এসেছে।
মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বিতর্ক ২৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি জামুকা সিদ্ধান্ত ২০২৬
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!