ছবি:সংগৃহীত
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। একই সময়ে শহরে অবস্থান করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিন নেতার নিরাপত্তায় নিজ নিজ দেশের বিশেষ বাহিনীর পাশাপাশি ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপম, গুরুত্বপূর্ণ হোটেল এবং নেতাদের চলাচলের রাস্তাগুলোকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশিরুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তার অন্যতম আলোচিত অংশ তাঁর ব্যবহৃত অরাস সেনাট লিমুজিন। বিশেষায়িত বাহিনী ও প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তার অন্যতম আলোচিত অংশ তাঁর ব্যবহৃত অরাস সেনাট লিমুজিন। সাঁজোয়া এই গাড়িটি রুশ প্রেসিডেন্টের সরকারি সফরে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
গাড়িটির শক্তিশালী কাঠামো ও সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে এটিকে অনেক সময় ‘চাকার ওপর দুর্গ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পরও পুতিনকে এই গাড়িতে দেখা গেছে।
পুতিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে রাশিয়ার ফেডারেল গার্ড সার্ভিস (এফএসও)। তাঁর সফরের আগেই রুশ নিরাপত্তাকর্মীরা দিল্লিতে পৌঁছে হোটেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেন।
এর সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নিজস্ব নিরাপত্তাবলয় যুক্ত হওয়ায় পুতিনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থ
শি যে তলায় থাকবেন, সেই অংশের পাশাপাশি নিচের তলা ও ছাদেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে দিল্লি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটসহ বিভিন্ন সংস্থা তাঁর নিরাপত্তায় যুক্ত রয়েছে।
শির সফর ঘিরে আকাশপথের নজরদারি ও বিভিন্ন ধরনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। তাঁর বহরে চীনের রাষ্ট্রীয় গাড়ি নির্মাতা হংছি ব্র্যান্ডের সাঁজোয়া গাড়ি ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্বে রয়েছে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি।
প্রধানমন্ত্রীর চলাচল, বাসভবন, কার্যালয়, জনসমাগম, দেশি-বিদেশি সফর এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসপিজি ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ এলাকা তৈরি এবং বিভিন্ন স্তরের সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনের সময় এসপিজির সঙ্গে দিল্লি পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনীও কাজ করছে।
ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে শুধু সম্মেলনস্থল নয়, রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১টি হোটেল ও ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিদেশি নেতাদের চলাচলের সম্ভাব্য রুটে আগাম মহড়া চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হোটেলের কর্মীদের পরিচয় ও তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
সম্মেলনস্থল ও বিভিন্ন হোটেলে বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু শনাক্তে প্রশিক্ষিত কুকুরও মোতায়েন করা হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো তিন নেতার পৃথক নিরাপত্তা কাঠামোকে ভারতের নিজস্ব ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।
পুতিনের ক্ষেত্রে রাশিয়ার এফএসও ও অরাস সেনাটকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শির ক্ষেত্রে চীনা নিরাপত্তা দল ও রাষ্ট্রীয় গাড়িবহর এবং মোদির ক্ষেত্রে এসপিজির নিজস্ব প্রটোকল কার্যকর রয়েছে।
তবে তিন নেতার চলাচল, অবস্থান ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন রাখতে এসব ব্যবস্থাকে ভারতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা হচ্ছে।
ফলে ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে নয়াদিল্লিতে শুধু ভিভিআইপি নিরাপত্তাই নয়, হোটেল, সড়ক, সম্মেলনস্থল, আকাশপথ এবং আশপাশের এলাকাজুড়ে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তাবলয় তৈরি হয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬ ব্রিকস সম্মেলনের নিরাপত্তা
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!