যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬,১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

চুপচাপ কবির ডায়েরিতে হাসির নাম

ফাহামিদা খাতুন

ফাহামিদা খাতুন

প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ PM

৩৮৭
চুপচাপ কবির ডায়েরিতে হাসির নাম

প্রতীকী ছবি গল্প থেকে।

মুহাম্মদ ছিল এমন এক ছেলে—যে বেশি কথা বলতো না, কিন্তু যখন বলতো, তখন কথাগুলো কবিতার মতো শোনাতো। সে ছিল শান্ত, মেধাবী, আর নিজের জগতে হারিয়ে থাকা এক তরুণ কবি। ক্লাসের জানালার পাশে বসে সে সবসময় কিছু না কিছু লিখতো—ডায়েরি, কবিতা, কিংবা অজানা অনুভূতি।

অন্যদিকে রাবেয়া ছিল ঠিক তার বিপরীত।

দুষ্টু হাসি, চোখে সবসময় একটা মজা লুকানো, আর ক্লাসে এমনভাবে কথা বলতো যেন হাসি না দিলে জীবন অসম্পূর্ণ। সে ছিল চঞ্চল, প্রাণবন্ত, আর প্রেম নিয়ে তার ছিল অদ্ভুত এক fascination—সব প্রেমের গল্প সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে শুনতো, আর নিজের মতো করে কল্পনা করতো।

 

প্রথম দেখা হয়েছিল লাইব্রেরিতে।

মুহাম্মদ চুপচাপ একটা বই পড়ছিল, হঠাৎ রাবেয়ার হাত থেকে কিছু বই পড়ে গেল—সব ছড়িয়ে গেল তার টেবিলের সামনে।সে হেসে বললো,— “এই বইগুলোও কি আমার মতোই প্রেমে পড়ে ছিটকে পড়েছে?”

মুহাম্মদ একটু অবাক হয়ে তাকালো… তারপর শান্ত গলায় বললো,— “বইগুলো পড়ে গেলে মানুষ হাসে… তুমি হাসালে কেন?”

রাবেয়া হেসে ফেললো।সেদিন প্রথমবার মুহাম্মদ বুঝলো—এই হাসি অস্বাভাবিক না, এটা যেন কোনো কবিতার প্রথম লাইন।

 

দিন যেতে লাগলো।

রাবেয়া প্রায়ই মুহাম্মদের পাশে এসে বসতো—কখনো প্রশ্ন করতে, কখনো শুধু বিরক্ত করতে।

— “এই কবিতা কার জন্য লিখো?”মুহাম্মদ চুপচাপ বলতো,— “যে বুঝবে, তার জন্য।”

রাবেয়া মজা করে বলতো,— “আমি বুঝি না, তাই কি আমার জন্য না?”

মুহাম্মদ হালকা হেসে বলতো,— “তুমি বুঝো না বলেই হয়তো তুমি-ই বেশি অনুভব করো।”

এই কথাটা রাবেয়ার মাথায় অনেকদিন ঘুরতো।

 

একদিন কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ কবিতা পড়ার সুযোগ পেলো।

স্টেজে দাঁড়িয়ে সে পড়তে শুরু করলো—

“চুপচাপ কিছু মানুষ থাকে,যাদের শব্দ কম, কিন্তু অনুভূতি আকাশ সমান…”

হঠাৎ তার চোখ গেল দর্শক সারিতে।

রাবেয়া বসে আছে—চুপচাপ, প্রথমবারের মতো হাসছে না। শুধু মন দিয়ে শুনছে।

সেদিন মুহাম্মদের কবিতার শেষ লাইন ছিল—

“আর আমি জানি না,এই কবিতা শেষ হচ্ছে, নাকি শুরু হচ্ছে তোমার দিকে তাকিয়ে…”

 

পরদিন রাবেয়া তাকে খুঁজে বের করলো।

সে আর আগের মতো দুষ্টু হাসছিল না। একটু শান্ত গলায় বললো,— “তুমি কি সব কবিতা এমনভাবে লেখো, যেন মানুষ হারিয়ে যায়?”

মুহাম্মদ বললো,— “না… শুধু তুমি এলে।”

রাবেয়া প্রথমবার একটু থেমে গেলো। তারপর হেসে বললো,— “তাহলে আমি বারবার আসবো।”

 

সেদিন থেকে গল্পটা বদলে গেলো।

রাবেয়া আর শুধু হাসির মেয়ে থাকলো না—সে হয়ে গেল মুহাম্মদের কবিতার সবচেয়ে সুন্দর লাইন।আর মুহাম্মদ, যে চুপচাপ থাকতো, সে শিখে গেল ভালোবাসা শব্দের চেয়েও গভীর কিছু।

 

শেষ লাইনে লেখা একটা ছোট কবিতা:  

"তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি চুপচাপ,

যেন কোনো কবি খুঁজে পেয়েছে তার বই।

তোমার সৌন্দর্য শব্দে বর্ণনা করা কঠিন,

কারণ তুমি নিজেই এক জীবন্ত কবিতা।"

সাহিত্য গল্প ছোট গল্প প্রেমের কাহিনী

২ মন্তব্য


তাসমিয়া আক্তার দিয়া

এই গল্পটি ছোট হলেও গল্পের মধ্যে রয়েছে বিশাল কল্পনা । খুবই অসাধারণ গল্পও ছিলো। এক কথায় চমৎকার । এমন গল্পও আরও চাই।

০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৩ AM
অনেক শব্দের ভিড়ে চেনা কেউ

ধরুন হয়েছে। অসাধারণ লেখা৷ আরও এমন গল্প পড়তে চাই।

২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ PM