যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৈষম্যহীন, জনবান্ধব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত গঠনে কাজ করতে চাই

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ PM

১২৮৮
বৈষম্যহীন, জনবান্ধব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত গঠনে কাজ করতে চাই

প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম সোহেল। ছবি: সবুজ নিশান

প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম সোহেল, ডেপুটি ম্যানেজার, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। জনাব জাকিরুল বর্তমানে জিটিসিএল অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার অধীন ১৩টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের নিয়ে গঠন করেছেন পেট্রো কোম্পানি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন (চঈণঅ)। সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে দৈনিক সবুজ নিশানের পক্ষ থেকে আমরা মুখোমুখি হয়েছি মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম
সোহেলের।

 

প্রশ্ন: জনাব জাকিরুল, দৈনিক সবুজ নিশানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। আপনি বর্তমানে জিটিসিএল অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন, পাশাপাশি আপনারা গঠন করেছেন পেট্রো কোম্পানি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন কেন এই সংগঠন করলেন?

জাকিরুল: ধন্যবাদ, আপনাকেও শুভেচ্ছা। আমি জিটিসিএল-এর অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছি। তো তখন থেকেই আমি, আমাদের কর্মকর্তাদের সুবিধা-অসুবিধা এবং প্রয়োজনগুলোর কথা চিন্তা করে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা শুরু করি। সেখান থেকে রিয়ালাইজ করতে পারি যে, আমাদের প্রতিষ্ঠানে তরুণ অফিসাররা খুব একটা থাকে না।

দেখা যাচ্ছে যে বিদ্যুৎ সেক্টরের যে কোম্পানিগুলো আছে, সেখানে তারা খুব বেশি মুভ করছে। এই জায়গা থেকেই আমি আরেকটু বিস্তর স্টাডি করা শুরু করি। তখন রিয়ালাইজ করতে পারি যে, আসলে আমাদের পেট্রোবাংলার অধীন যে কোম্পানিগুলো সেখানে আমাদের বেতন এবং সুযোগ সুবিধা, ফ্রিঞ্জ বেনিফিট এই সুযোগ সুবিধাগুলো বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর তুলনায় অনেক সীমিত বলা যায়। কারণ বিদ্যুৎ সেক্টরের কোম্পানিগুলোতে স্বতন্ত্র বেতন স্কেল রয়েছে। আমাদের ক্ষেত্রে সেটা সরকারি পে-স্কেলে নির্ধারিত। আমাদের বন্ধুরাই যেমন, আমি বুয়েট থেকে পড়াশোনা করেছি সেখান থেকে যারা পড়াশোনা করেছে বা অন্যান্য প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান থেকে, তারা দেখা যাচ্ছে যে এই পেট্রোবাংলার অধীন কোম্পানিগুলোতে জয়েন করার পরেও খুব দ্রুততম সময়ে অন্য প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ খাতের অধীনে যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেখানে চলে যায়। তাদের এই প্রবণতাটা আমি লক্ষ্য করি। তখন থেকে আমি পেট্রোবাংলার অধীন অন্যান্য আরো বেশ কিছু কোম্পানির যে তরুণ আছে, যারা আমাদের সাথে কানেক্টেড ছিল, তাদের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করি যে আসলে তাদের অবস্থাটা কি?

দেখা যায়, জিটিসিএল এর মতো ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এই এমপ্লয়ি টার্নওভার রেট খুবই হাই। এই দিকগুলা বিবেচনায় তখন আমরা চিন্তা করলাম যে কী করা যায়। আমরা বিভিন্ন রিপোর্ট প্রস্তুত করি, আমাদের সমস্যাটা আসলে কোথায়। আমাদের জনবল সংকট কেন এত বাড়ছে এবং এটাকে কীভাবে সমাধান করা যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা অনুভব করলাম যে, আমাদের একটা প্ল্যাটফরম তৈরি করা দরকার। সেই প্ল্যাটফরমের উদ্দেশ্য হবে এই বাংলাদেশের জ্বালানি সেক্টরের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সারা পৃথিবীতেই জ্বালানিটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রাইমারি জ্বালানি নিয়ে কাজ করি, তো প্রাইমারি জ্বালানি খাত সব জায়গায় বিশেষায়িত হিসেবে থাকে।

কিন্তু বাংলাদেশে পেট্রো সেক্টরের অধীন যে কোম্পানিগুলো আছে বা পেট্রোবাংলার যে কোম্পানিগুলো তাদেরকে বিশেষায়িত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় নাই। যে কারণে আমরা ওই নরমাল গভর্মেন্ট পে- স্কেল পাই, কিন্তু বিদ্যুৎ সেক্টরে ওরা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্পেশাল সুবিধা পায়, যেটা আমরা পাই না। তো আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে যে, আমরা একটা তরুণ পেশাজীবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা বাংলাদেশের জ্বালানি সেক্টরকে একটা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এবং সেটা করতে গিয়ে আমাদের প্রথমত যেটা দরকার, সেটা হচ্ছে সেই তরুণ অফিসারদেরকে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধরে রাখা। তো এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধরে রাখতে গেলে আমাদের আসলে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো, তারপর হচ্ছে ফ্রিঞ্জ বেনিফিটসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধাগুলোর দরকার। আমাদের প্রচুর আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে, সেখানে অফিসাররা কাজ করেন, দেখা যাচ্ছে সেখানে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা অনেক সময় থাকে না। তো সবদিক বিবেচনায় আমরা এই সংগঠন গড়ে তুলি। আমরা আমাদের সব প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ডাটা, সুবিধা-অসুবিধার বর্ণনা সব নিয়ে গঠনমূলক উপায়ে কিছু রিপোর্ট প্রস্তুত করে আমরা যেন আমাদের ম্যানেজমেন্টকে দিতে পারি। যার মাধ্যমে আমরা একটা গঠনমূলক পরিবর্তন আনতে পারি দেশের জ্বালানি সেক্টরের স্বার্থে, আমাদের বাংলাদেশের স্বার্থে।

 

প্রশ্ন: তরুণদের নিয়েই কেন সংগঠনটি করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন?

জাকিরুল: তরুণদের নিয়ে করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যে, আসলে আমরা যে প্রবলেমটা ফেস করছি, আমি যদি জিটিসিএল-এর তথ্য দিয়ে ব্যাপারটা দেখি, আমি ২০১৬ সালে জিটিসিএল-এ জয়েন করি। তো ২০১৬ সালে আমাদের প্রায় ৬৭ জন অফিসার জয়েন করেন। এরমধ্যে বর্তমানে আমাদের ৩০ জনের মতো
কর্মরত আছেন।

প্রায় ৩৭ জন ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তারপর ২০১৮ সালে আমাদের আরেকটা রিক্রুটমেন্ট হয়। আমাদের কাছে ডাটা আছে, সেখানে ১৩৪ জন ক্যান্ডিডেট
রিকমেন্ডেড হয়েছিল। তারমধ্যে ৪০ জন জয়েনই করে নাই এবং ৩৬ জন জয়েন করার পরে রিজাইন করেছে। সবচেয়ে এলার্মিং ব্যাপার হচ্ছে যে, ২০২২ সালের যে তথ্য, সেখানে ১৭৯ জন ক্যান্ডিডেট রিকমেন্ড করা হয়েছিল এবং সেখানে ৫৫ জন জয়েন করে নাই এবং জয়েন করার পরে আরো প্রায় ৫১ জন এমপ্লয়ী মানে অফিসার চলে গিয়েছে। তো দেখা যাচ্ছে যে, এই সমস্যাটা প্রধানত তরুণদের মধ্যে এবং আমাদের এই যে বেতন বৈষম্য এবং সুযোগ সুবিধার বৈষম্য, এটা তরুণরা সবচেয়ে বেশি অনুধাবন
করে। আমরা নিজেরাও দেখছি আমাদের ফ্রেন্ড যারা ডিপিডিসি, ডেসকো বা পিজিসিবিত-তে কাজ করে তাদের সঙ্গে আমাদের বৈষম্য কতোটা। তারা আমাদের চেয়ে প্রায় দুই-তিন গুণ বেশি বেতন পায়। সেই জায়গা থেকে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের তরুণ অফিসাররা এই সেক্টর ছেড়ে অন্য সেক্টরে চলে যাচ্ছে।

এই জ্বালানি খাতটা খুবই হাইলি এডভান্সড টেকনোলজি নির্ভর প্রতিষ্ঠান। এখানে হাইলি টেকনিক্যাল জনবল খুবই দরকার। তো দেখা যাচ্ছে বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট বা এরকম ভালো প্রতিষ্ঠান থেকে যারা আসে, তারা যেহেতু মেধার ভিত্তিতে আসে তারা সহজেই আরো ভালো জায়গায়, ভালো বেতনে, ভালো চাকরি পায়। সো তারা এখান থেকে চলে যায়। যে কারণে আমাদের এই যে হাইলি টেকনিক্যাল মেশিনারিজ এবং ইকুইপমেন্টগুলো মেইনটেইন করার জন্য যে জনবল দরকার, সেটা আমরা ধরে রাখতে পারি না। এতে
দেখা যাচ্ছে যে আমাদের জ্বালানি খাতটা পিছায়ে পড়ছে। তো এই ইচ্ছা থেকেই বিষয়গুলো অনুধাবন করে আমরা তরুণদেরকে নিয়ে এই সংগঠনটা করছি যাতে আমরা একটা পেশাজীবী তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারি যারা আমাদের জ্বালানি নিয়ে কাজ করবে।

 

প্রশ্ন: পেট্রোবাংলার অধীন প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত কারিগরি দক্ষতাভিত্তিক মানুষদের কর্মক্ষেত্র। আপনি নিজে একজন প্রকৌশলী। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত প্রকৌশলীদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আপনার বক্তব্য?

জাকিরুল: আমি যে ডাটাটা একটু আগে উপস্থাপন করেছিলাম, সেই ডাটাটার দিকে আরেকটু ডিপলি যদি দেখি, সেখানে আমরা দেখতে পারি যে আমাদের যে কারিগরি ক্যাডার গ্রেড সিক্স টু গ্রেড টেন, যারা মূলত আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে কাজ করে। আমি জিটিসিএল এর তথ্য বলছি, দেখা যাচ্ছে যে তারা
মেইনলি এই আমাদের মিটারিং স্টেশন, ভাল্ব স্টেশন মেইনটেইন করা, আমাদের কম্প্রেশার স্টেশন থেকে শুরু করে পাইপলাইন মেইনটেনেন্স সব কাজ এই গ্রেডের কর্মকর্তারা মাঠে করে থাকে।

আমাদের অনুমোদিত পদ ৩১৭টা, তার মধ্যে ভ্যাকেন্ট হচ্ছে ১৯৯টা। মানে আমাদের মাত্র ৩১৭টা পদের বিপরীতে ১১৮ জন প্রকৌশলী কাজ করছে। এটা শুধু প্রকৌশলীদের কথা বলছি। এর মানে হচ্ছে ৬৩ পার্সেন্ট পদ হচ্ছে ফাঁকা। যেহেতু প্রকৌশলী পদ ফাঁকা আমাদের এই যে হাইলি এডভান্সড টেকনিক্যাল মেশিনারিজ, ইকুইপমেন্ট, ইন্সট্রুমেন্টগুলো আমাদের মেইনটেইন করা লাগে, এটা করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। এইজন্য আমাদের দক্ষ প্রকৌশলী ধরে রাখার জন্য আমাদের এই জ্বালানি সেক্টরে আমি মনেকরি যে আরো গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

যেহেতু আমরা প্রাইমারি জ্বালানি নিয়ে কাজ করি, আমরা বিদ্যুৎ সেক্টরকে জ্বালানি দেই, সেই জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সেক্টর উৎপাদন কাজ সম্পন্ন করে। সো আমরা এখানে যদি বঞ্চিত থাকি, তাহলে বিদ্যুৎ সেক্টরও খুব বেশি আগাতে পারবে না এবং বাংলাদেশও খুব একটা আগাতে পারবে না। তো সেই দিক থেকে আমরা যেন জ্বালানি সেক্টরে দক্ষ প্রকৌশলী ধরে রাখতে পারি, তার জন্য আমাদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

 

প্রশ্ন: প্রকৌশলীদের পদোন্নতি, মূল্যায়ন এই বিষয়গুলোতে কিছু অভিযোগ কিন্তু প্রকৌশলীদের মধ্যেই আছে। যোগ্যতা, দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রকৌশলীদের মূল্যায়ন করা হবে এটাই কাম্য। বিষয়টি নিশ্চিত করতে কি আপনারা কোনো উদ্যোগ নেবেন? 

জাকিরুল: অবশ্যই। আপনি যে পয়েন্টগুলা বলেছেন যথার্থই বলেছেন। আসলে আমাদের রিপোর্ট প্রিপেয়ার এখানে সবচেয়ে যে বড় সমস্যাটা আমরা দেখেছিÑ আমাদের এখানে যে ট্রেনিং ব্যবস্থা। প্রশিক্ষণটা হচ্ছে প্রকৌশলীকে সবসময় দক্ষ রাখতে এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী রাখতে আমাদের আসলে প্রতিনিয়ত ট্রেনিং দেওয়ার প্রয়োজন। তো আমাদের এই ট্রেনিং ফেসিলিটিটা আসলে আমি মনে করি যে আপ টু দ্যা মার্ক নয় বা আরো ইমপ্রুভ করার সুযোগ আছে। কারণ হচ্ছে যে আমাদের এই পুরো পেট্রো সেক্টরের পেট্রোবাংলার আন্ডারে ১৩টা কোম্পানি, কিন্তু আমাদের নিজস্ব স্পেশালাইজড কোনো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নাই। আমি মনে করি যে এটা করলে আমাদের প্রকৌশলীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করা যাবে। তো এই এই জায়গা থেকে প্রকৌশলীদের পদোন্নতি সমস্যা তো আছেই প্লাস আমাদের এই যে ফ্রিঞ্জ বেনিফিট, আমাদের এই যে প্রশিক্ষণ এই জায়গাগুলোতেও কাজ করার প্রয়োজন আছে।

 

প্রশ্ন: ২০২৬ এর বাংলাদেশে তরুণদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আপনাদের সংগঠনটি তারুণ্য নির্ভর। তো সেই জায়গা থেকে আপনাদের যে ১৩ প্রতিষ্ঠানের তরুণ কর্মকর্তারা এক জায়গায় হলেন, সেখান থেকে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বা প্রতিষ্ঠান কী করে আরো এগিয়ে যেতে পারে, আরো দক্ষতার ভিত্তিতে চলতে পারে, আরো জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান কীভাবে তৈরি হতে পারে, বিদ্যমান অভিযোগগুলো কীভাবে নিরসন করা যায় সবকিছু মিলিয়ে আপনাদের তরুণ কর্মকর্তারা কী ভাবছেন, কী করতে চান?

জাকিরুল: ধন্যবাদ। আমাদের জিটিসিএল সরাসরি জনসম্পৃক্ত কাজ করে না। কিন্তু তারপরেও আমাদের পেট্রোবাংলার যে ১৩টি কোম্পানি আছে, তার মধ্যে যারা ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি আছে, তারা সরাসরি জনসম্পৃক্ত কাজ করে থাকে। তো আমরা ইতিমধ্যে যেসব রিপোর্ট প্রস্তুত করেছি এবং যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যে জনদুর্ভোগ কমানো। এবং আমাদের ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলো যে গ্যাস সাপ্লাই করে এবং জনগণের সাথে যেভাবে কানেক্টেড হয়, সেই যে মাধ্যম এখন যেহেতু আমাদের টেকনোলজির যুগ, টেকনোলজির ব্যবহার করে কীভাবে জনগণকে আরো ইজিলি কানেক্টেড করা যায় এবং তাদের কাছে সেবাটা সহজভাবে পৌঁছিয়ে দেওয়া যায়, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং আমরা বিভিন্ন রিপোর্ট প্রস্তুত করছি। আমরা সেই রিপোর্টগুলা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দিব এবং তারা যাচাই-বাছাই করে যে আমাদের যে সাজেশনগুলো উপযোগী মনে করবেন তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমাতে ভূমিকা রাখবেন এটাই প্রত্যাশা।

 

প্রশ্ন: আরেকটি বিষয়, আপনাদের সংগঠনটি প্রতিষ্ঠান নির্ভর। এর বাইরে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আপনারা তরুণ কর্মকর্তারা কিছু ভাবছেন কি না বা সামাজিক দায়বদ্ধতাকে ঠিক কীভাবে দেখছেন?

জাকিরুল: যেহেতু আমরা তরুণরা একটা সংগঠনের মাধ্যমে একত্রিত হয়েছি, তো আমাদের অবশ্যই ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে যেকোনো জাতীয় প্রয়োজন থেকে শুরু করে দুর্যোগে আমরা যেন খুব একটিভলি গঠনমূলক উপায়ে সাহায্য সহযোগিতা করতে পারি। কাজ করতে পারি জনদুর্ভোগ কমাতে এবং জনগণের কল্যাণে। আমরা যেহেতু সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করি কেবল সংগঠনের সদস্য নয় সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েই আমরা পথ চলব।

সবুজ নিশান: আপনাকে ধন্যবাদ জনাব জাকিরুল ইসলাম।

জাকিরুল: আপনাকে এবং সবুজ নিশান পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ, শুভকামনা।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!