যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে মামলা তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৯ PM

জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে মামলা তদন্ত

ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে মো. শহিদুল ইসলামকে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

মামলার এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, প্রায় সাত বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাকে বিভিন্নভাবে প্রস্তাব দেন এবং বিয়ের আশ্বাস দেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ মার্চ সকালে শহিদুল ইসলাম তাকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তার বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনায় তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং গত ১৮ মে চিকিৎসার কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানোর পর তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আদালতের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। আদেশের কপি পাওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!