যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশেষ সাক্ষাৎকার

আইইবি’র প্রতিটি সদস্যের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছি: প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান

প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামান। প্রকৌশলী সমাজের স্বার্থে তাঁর পরিচয় আপাদমস্তক এক লড়াকু মানুষ। শুধু তাই নয় বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে পেশাজীবী সমাজের অন্যতম কণ্ঠস্বরও তিনি। ‘দৈনিক সবুজ নিশান’-এর নিয়মিত আড্ডার আয়োজন প্রকৌশলী কথনে আজ আমরা মুখোমুখি হয়েছি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (IEB)-এর ঢাকা সেন্টারের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামানের।

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ PM | সর্বশেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০২ PM ১৮১
আইইবি’র প্রতিটি সদস্যের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছি: প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান

ছবি: সবুজ নিশান

জনাব আসাদুজ্জামান, সবুজ নিশানের আজকের আয়োজনে আপনাকে স্বাগতম।

আসাদুজ্জামান: জি, আপনাকে ধন্যবাদ এবং সবুজ নিশানের কর্তৃপক্ষ ও কলাকুশলী যারা আছেন, তাঁদেরকে আমার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।

প্রশ্ন: প্রথমেই সংক্ষেপে জানতে চাই IEB-র কার্যক্রম এবং প্রকৌশলী সমাজ নিয়ে IEB-র ভাবনা।

আসাদুজ্জামান: ধন্যবাদ আপনাকে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (IEB) ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠিত হয়, তা হলো প্রকৌশলী সমাজের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করা। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আজকে ৭৮ বছর ধরে প্রকৌশলীদের স্বার্থ নিয়েই কাজ করছে IEB, তাঁদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নে IEB যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে বলে আমি বিশ্বাস করি।

প্রশ্ন: আপনি যেহেতু একটি পেশাজীবী সংগঠনের নেতা, বিগত বছরগুলোতে বিশেষ করে বিগত ১৬ বছরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে পেশাজীবীদের ভূমিকাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আসাদুজ্জামান: আপনার প্রশ্নটি যথার্থ। পেশাজীবীদের ভূমিকা বলতে গেলে একটু পেছনে যেতে হয়। আসলে একটি দেশের পেশাজীবীরা দেশকে উন্নত করতে পারে, সমৃদ্ধ করতে পারে এবং একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়তে পেশাজীবীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

কিন্তু বিগত বছরগুলোতে একটি রিজিমে (শাসনামলে) দেখা গেছে যে, এই পেশাজীবীরা ছিল সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার। আমরা দেখেছি যে, পেশাজীবীদের স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার ছিল না। ছিল না তাঁর মত প্রকাশ করার কোনো স্থান। ভিন্নমত হলেই তাঁকে রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে ওএসডি (OSD) করা কিংবা পানিশমেন্ট বদলি তাঁদের জন্য ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

বিগত বছরগুলোতে এমনও দেখা গেছে যে, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যখন ‘ঘোষক’ বলে একজন লেখক লিখলেন, যিনি অধ্যাপক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাঁকে বরখাস্ত করা হলো। অর্থাৎ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের যে পরিবেশ সেটি ছিল না। এমতাবস্থায় পেশাজীবীরা ছিলেন সবচাইতে অবহেলিত।

২০০৯ সালের শুরু থেকে ২০২৩-২৪ সাল পর্যন্ত পেশাজীবীরা অত্যন্ত সোচ্চারভাবে মাঠে-ময়দানে রাজপথে ছিলেন। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের পূর্বে একটি ডাক দিয়েছিলেন; সেই ডাকটি ছিল ‘দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে’ জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান। তখন তাঁর আহ্বানে পেশাজীবীরা সোচ্চার হয় এবং সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নেমেছিল। বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ—এগুলোর পাশাপাশি তারা এই রাষ্ট্র বিনির্মাণে, এই রাষ্ট্রের যে ক্ষত হয়েছে, যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে, যে প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সমৃদ্ধ হওয়ার কথা ছিল সেগুলো যখন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, তখন কিন্তু পেশাজীবীরা হাল ধরেছে এবং দেশের প্রয়োজনে রাজপথে নেমে এসেছে। এই দেশকে বাঁচাতে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে পেশাজীবীরা অত্যন্ত সোচ্চার ছিল গত কয়েক বছরে।

প্রশ্ন: আমরা যতটুকু জানি, পেশাজীবী সমাজের স্বার্থরক্ষায় আপনাকে এক পর্যায়ে কারাবরণ করতে হয়েছিল। আপনি কি সেই অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন?

ছবি; আদালতের কাঠগড়ায় প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামান

আসাদুজ্জামান: আসলে কারাবরণ পেশাজীবীদের জন্য কোনো স্বাভাবিক বিষয় ছিল না। পেশাজীবীরা পেশাগত কারণেই রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণে, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক দুরবস্থা দূরীকরণে কাজ করেন। পেশাজীবীরা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কারাবরণ করবেন, এটা খুবই দুঃখজনক।

আমিও ২০১৮ সালের ১৭ই জানুয়ারি একটি মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যখন আদালতে হাজির করানো হচ্ছে, সে সময় তাঁর প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাজপথ থেকে গ্রেপ্তার হই। আমাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়, রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়, পরবর্তীতে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন জেলে যান, তখন আমিও কারাগারেই ছিলাম। অসংখ্য মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখেছি, বিরোধী নেতাকর্মীদের আর্তনাদ শুনেছি কারাগারে। তাঁদেরকে কীভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং নির্মমভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যাও করা হয়েছে তখন, আমি স্বচক্ষে সেগুলো দেখেছি।

প্রশ্ন: আপনি তো IEB-র পাশাপাশি AEB-এরও একজন কেন্দ্রীয় নেতা। AEB-র ভূমিকাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আসাদুজ্জামান: অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (AEB) একটি পেশাজীবী সংগঠন। পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারদের, ইঞ্জিনিয়ার্স কমিউনিটির পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে দীর্ঘদিন ধরেই। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই প্রকৌশলী সমাজের হয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক AEB নেতাকে রাষ্ট্রীয় নির্মমতার শিকার হতে হয়েছে। অনেকেই সরকারি চাকরি করেছেন, সেই অবস্থায় AEB-র কার্যক্রম করতে গিয়ে তাঁদেরকে জেলে যেতে হয়েছে, পানিশমেন্ট বদলি পর্যন্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও AEB- এর নেতারা তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (AEB)-এর মূল কার্যক্রম হলো ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে। ১৯৯১ সালে AEB গঠিত হয়, তারপর থেকেই এই পেশার লোকজনকে কীভাবে সমৃদ্ধ করা যায়, অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়, এবং তাঁদের পেশাগত মানোন্নয়নের জন্য AEB জাতীয়ভাবে কাজ করছে।

সরকারের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম থাকে, সেই কার্যক্রমের মধ্যে যে ইস্যুগুলো আমাদের কাছে যখন আসে—ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল, সেই ইস্যুগুলো নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করি, আমাদের এক্সপার্টরা যখন এগুলো নিয়ে সেমিনার, ওয়ার্কশপ করেন সেই সমাধান ও সুপারিশগুলো আমরা সরকারের কাছে দিতে পারি। এরকম একটি সংগঠন হলো অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (AEB)।

এছাড়াও অনেক প্রকৌশলী আমাদের এই সমাজে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাঁরা বিভিন্নভাবে নাজেহাল হয়েছেন, এমনকি অনেককে নিজের কমিউনিটির পক্ষে কথা বলতে গিয়ে জেলে পর্যন্ত যেতে হয়েছে। আমরা প্রকৌশলী সমাজের প্রতি কৃত যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে সোচ্চার ছিলাম।

আমরা মনে করি অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ একটি জাতীয় পেশাজীবী সংগঠন। সেই সংগঠনের সকল সদস্যই জাতীয়তাবাদী ভাবধারার আদর্শে বিশ্বাসী। ১৯৯১ সালে যে মহৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে AEB গঠিত হয়েছিল সেই আদর্শ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।

প্রশ্ন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশে একটি নতুন প্রেক্ষাপট রচনা করেছে। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা, যে আশা সাধারণ মানুষের ছিল, তা কতটুকু পূরণ হবে বা কী করে পূরণ হবে—এ বিষয়ে আপনার ভাবনা...

আসাদুজ্জামান: দেখুন, জুলাইয়ের প্রেক্ষাপটটা তৈরি হয়েছিল আরও ১৬ বছর পিছন থেকে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রেক্ষাপটটা যদি আমি বর্ণনা করি—তখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী দল একটি আন্দোলন করছিল। সেই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি করার জন্য রাজপথে ছিল। কিন্তু তখনকার সরকার ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ দিতে রাজি না হওয়ার কারণে একতরফা একটি নির্বাচন হয় ২০১৪ সালে, পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে রাতে নির্বাচন হয়, ২০২৪ সালে হয় ‘ডামি’ নির্বাচন ।

এই নির্বাচনগুলো করার কারণে সরকারের উপর মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়। ছাত্ররা তাঁদের মেধার ভিত্তিতে যে চাকরি পাওয়া, সেটা পাচ্ছিল না। তারা কোটার কারণে তাদের মেধার মূল্যায়ন পাচ্ছিল না। সমাজে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। দুঃশাসন, দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব এগুলোর কারণে একটি দেশে যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সেটা টোটালি ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। বাকস্বাধীনতা ছিল না, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছেয়ে গিয়েছিল। এরকম একটি অবস্থায় গণ-অভ্যুত্থান কেন হয়েছিল, তা আপনারা অবশ্যই ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন।

সেই গণ-অভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা নিয়ে ছাত্র-জনতা নেমেছিল, পেশাজীবীরা নেমেছিল, তাঁদের সেই প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কাজ করবেন—এটাই আমরা প্রত্যাশা করি, এটাই আমরা আশা করি।

বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জনাব তারেক রহমান বলেছেন যে, ‘জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর তিনি বাস্তবায়ন করবেন।’ আমরা তাঁর সেই কমিটমেন্টের প্রতি দৃঢ়ভাবে আস্থা রাখি; তিনি অবশ্যই, অবশ্যই গণ-অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, সেটা বাস্তবায়ন করবেন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে প্রকৌশলী সমাজের একটি বড় অংশ কিন্তু বেসরকারি খাতে কর্মরত। তো সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে কর্মরত এই প্রকৌশলীদের জন্য IEB থেকে তাঁদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা ইত্যাদি নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী?

আসাদুজ্জামান: ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (IEB) তার সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি খাতের সদস্যকেই সমানভাবে মূল্যায়ন করে। মূল্যায়ন করে বলেই আপনি জেনে থাকবেন যে, এখানে একটি উইং রয়েছে যেটি হলো ‘সার্ভিস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার’ (S&W )। সার্ভিস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার হলো এই বিভিন্ন পেশায় যাঁরা কর্মরত রয়েছেন, তাঁদের সেই পেশাগত উন্নয়নে, পেশাগত মানোন্নয়নে এবং তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা দেখার জন্য।

আপনি যেটি বললেন—বেসরকারি প্রকৌশলীরা, তাঁদের যে কর্মক্ষেত্র সেখানে তাঁদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার কথা—এগুলো শোনার জন্য আমি মনে করি যথাযথ কার্যকর ফোরাম হলো S&W (সার্ভিস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার)। IEB প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে এরকম একটি উইং দরকার এবং সেই উইংটি তারা তৈরি করেছে। এই S&W কিন্তু পেশাগত উন্নয়নে এবং প্রত্যেক  খাতের সেটি বেসরকারি হোক কিংবা সরকারি—তার যে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো, যে অসুবিধাগুলো, যে অসঙ্গতিগুলো সেগুলো দূরীকরণে সার্ভিস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাজ করে।

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন বিগত সময়গুলোতে IEB-র ভূমিকা যথাযথ ছিল? দ্বিতীয় প্রশ্নটি হচ্ছে, IEB নিয়ে আপনাদের আগামী দিনের ভাবনা কী?

আসাদুজ্জামান: আপনি জেনে থাকবেন, ২০১৫ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর IEB-র জন্য একটি কলঙ্কজনক, জঘন্যতম অধ্যায় রচিত হয়েছিল। সেদিন ৬৭ বছর পর IEB-র যে কালচার, IEB যে সর্বজনীন, IEB যে সকল মত, পথ এবং দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করে— তখনকার কমিটি একটি জবরদখল ও বলপ্রয়োগের নির্বাচনের মাধ্যমে IEB-র মতো ঐতিহ্যবাহী একটি সংগঠনের যে পরিবেশ, সেই পরিবেশটি বিনষ্ট করেছিল।

২০১৫ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেখানে অনেক ভোটার ভোট দিতে এলে নিগৃহীত হতে হয়েছে। বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়)-এর প্রফেসরেরা পর্যন্ত স্বাধীনভাবে তাদের ভোট প্রদান করতে পারেননি। সমাজের অনেক বিশিষ্ট নাগরিকদের হেয় করা হয়েছে। স্রেফ তাঁদের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে তাঁদেরকে নিগৃহীত হতে হয়েছে।

আমি সে সময় সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলাম। আমাকে IEB-র গেট থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি কিন্তু আমার নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারি নাই! এরকম একটি পরিবেশ ছিল, যে পরিবেশের মাধ্যমে, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে, জবরদখলের মাধ্যমে IEB-কে, IEB-র ঐতিহ্যবাহী ৬৭ বছরের যে ইতিহাস, সেই ইতিহাসকে তারা কলঙ্কিত করেছে।

তাদের সেই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের প্রকৌশলী সমাজ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা সেই IEB-এর কর্মকাণ্ডে কোনোভাবেই নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করেনি, এমনকি মেম্বারশিপ পর্যন্ত রিনিউ করেনি। তারা IEB-র নেতৃত্বকে ঘৃণার চোখে দেখেছে, তখনকার সেই কমিটিগুলোর যারা নেতৃত্বে ছিলেন, তাঁদের প্রতি ঘৃণা দেখিয়েছে।

আমি মনে করি, সেখান থেকে আমাদের শুরু—যেখানে ওরা সেই কলঙ্কজনক অধ্যায় করেছিল। আমরা যারা এখন দায়িত্বে আছি ২০২৪-এর পটপরিবর্তনের পর, আমাদের প্রধানতম দায়িত্ব হবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে IEB-কে কলঙ্ক মুক্ত করে তাকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ১৯৪৮ সালে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে IEB গঠিত হয়েছিল, সেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা করা।

এবং IEB-তে সর্বসাধারণের, সর্বজনীন, দল-মত নির্বিশেষে সকলের, সকল সদস্যের সমানভাবে যেন অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়—সেই লক্ষ্যে কাজ করা। পেশাগত মানোন্নয়নে এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যে সমস্ত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ আয়োজন করা প্রয়োজন, সেগুলো ইতোমধ্যেই আমরা আয়োজন করেছি এবং আগামীতেও করব। আগামীতে IEB হবে সকল সদস্যের সমান অধিকারের এবং সেটি বাস্তবায়ন করাই আমাদের প্রধানতম কাজ।

জনাব আসাদুজ্জামান, আপনাকে ধন্যবাদ সবুজ নিশানের পক্ষ থেকে।

আসাদুজ্জামান: আপনাকে এবং সবুজ নিশানের কলাকুশলী ও কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে ধন্যবাদ।

IEB প্রকৌশলী AEB বিএনপি প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামান

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!