যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬,১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকৌশলীদের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বাড়ানোর আহ্বান: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ PM

১০১
উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকৌশলীদের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বাড়ানোর আহ্বান: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

আইইবির কাউন্সিল হল-এ প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সবুজ নিশান

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে প্রকৌশলীদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, প্রকৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রকৌশলীদের হাতেই থাকা উচিত। এতে প্রকল্পের গুণগত মান বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে আয়োজিত ‘Inauguration of APMCE2026 & Success and Failure of Projects from Project Management Viewpoint: Bangladesh and International Context’ শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইইবির পুরকৌশল বিভাগ আয়োজিত এ সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের শুরু থেকেই প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলীদের নিয়োগ বাড়াতে হবে এবং প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এজন্য গবেষণালব্ধ সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমানে অনেক প্রকৌশলী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর প্রকৌশল পেশার পরিবর্তে প্রশাসনিক কাজে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর ফলে দেশ দক্ষ প্রকৌশলী হারাচ্ছে। অথচ একজন দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করতে সরকারের দীর্ঘ সময় ও বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণের সময় শুধু বর্তমান প্রয়োজন নয়, ভবিষ্যৎ চাহিদা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের তৈরি করা ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে যাওয়ার পর প্রকৌশল পেশার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংশোধনের জন্য ফেরত আসে। এতে প্রকৌশলগত বাস্তবতা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। তাই পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় প্রকৌশলীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে অনেক সময় তাদের অসংখ্য সাফল্যের তুলনায় ব্যর্থতার বিষয়গুলো বেশি আলোচনায় আসে।

স্থপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভবনের নকশা তৈরির সময় প্রাকৃতিক আলো ও বায়ু চলাচলের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর ভবন নির্মাণ সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বল্পমেয়াদি চিন্তার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, একটি প্রকল্প শুধু নির্মাণকাজ শেষ করার বিষয় নয়। এর স্থায়িত্ব, রক্ষণাবেক্ষণ, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই প্রকল্প পরিকল্পনা করতে হবে।

ডুয়েট উপাচার্য আরও বলেন, আইইবি ও ডুয়েটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ধরনের সেমিনার গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় কার্যকর নীতিমালা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, দেশের অধিকাংশ ভবন এখনও আধুনিক ভূমিকম্প-সহনশীল মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মিত নয়। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ভবিষ্যতের অবকাঠামো নির্মাণে ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি এ ক্ষেত্রে জাপানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বড় কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক ছোট পরিসরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ ও দ্রুত নগরায়ণের বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে বারবার সম্প্রসারণের প্রয়োজন কমবে এবং সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ও আইইবির পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (খোকা)।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবির সভাপতি ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু) এবং ডুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. আবু তায়েব।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবির পুরকৌশল বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আয়নুল কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী নেসার উদ্দিন।

এ ছাড়া আইইবির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য, বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মীর শাহে আলম উন্নয়ন প্রকল্প প্রকৌশলী বাংলাদেশ উন্নয়ন এলজিইডি আইইবি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!