ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইসমাইল বাঘায়ি।ছবি : সংগৃহীত
কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, এই ঘটনাকে তেহরান একটি ‘বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতা’ হিসেবে দেখছে এবং এর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) তেহরানে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘায়ি বলেন, যারা নিজেদের ইউক্রেনের সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দাবি করে, তাদেরও এ ঘটনার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জেলেনস্কির সাম্প্রতিক পদক্ষেপ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নৈরাজ্যবাদী কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি এড়ানো সম্ভব নয়।
বাঘায়ি আরও দাবি করেন, ইউক্রেন গত কয়েক বছর ধরে বড় শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নিজেদের জড়িয়েছে এবং নিজস্ব সংকট মোকাবিলার পরিবর্তে অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। তিনি পুনরায় বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তবে ইরানি জাহাজে হামলাকে তেহরান কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ইউক্রেনের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরানের মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনার জন্য দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী অন্যান্য দেশও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এর আগে গত শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী এবং এটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ইরান আরও জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও আত্মরক্ষার স্বীকৃত অধিকারের ভিত্তিতে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হামলার সব ধরনের পরিণতির দায় ইউক্রেন সরকার ও তাদের সমর্থকদের বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!