যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৯ PM ২৭
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন; ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তাঁর মতে, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমানের দপ্তরে বৈঠকে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। আন্দালিভ রহমান জানান, মতপ্রকাশের অধিকার ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয় এবং এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে, এসব বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও বৈঠকে মতবিনিময় হয়।

সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই। তাঁর দাবি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই সরকার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বরও সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিলেন তিনি।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো, মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা করেছিলেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তার কথাও বৈঠকে উল্লেখ করেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি জানান, তাদের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!