যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,১৮ কার্তিক ১৪৩৩

তেলে কারসাজি: ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল টিকে গ্রুপ

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ০৩:০২ PM ২১১
তেলে কারসাজি: ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল টিকে গ্রুপ

ছবিঃ সংগৃহীত

ভোজ্যতেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সরবরাহে কারসাজির মাধ্যমে বিপুল মুনাফা অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী টিকে গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

প্রতিযোগিতা কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে টিকে গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে বিপুল মুনাফা অর্জন করে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র দুই মাসে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার মাধ্যমে ৫০০ কোটি টাকার বেশি লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির সময় দেশে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রভাব বিস্তার করে। এ সময় বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠে, যার ফলে সরকার মূল্য সমন্বয় করতে বাধ্য হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ওই সময়ে শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করেনি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিবেশকদের কাছে সরবরাহও নিশ্চিত করেনি। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সাপ্লাই অর্ডার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৫ দিন সময় নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে চাহিদা বেশি থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিটি পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত রাখে, যার ফলে বাজারে ঘাটতির পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং দাম বৃদ্ধি পায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের শুরু থেকে মে মাসের মধ্যে সয়াবিন তেলের সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায় এবং এই সময় দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা কমিশন তদন্ত পরিচালনা করে এবং শুনানি শেষে কোম্পানিটিকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা করে। কমিশনের মতে, প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘন করে বাজারে যোগসাজশ ও কারসাজির মাধ্যমে ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

তবে জরিমানার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানির মোট টার্নওভার ও সম্ভাব্য লাভের তুলনায় জরিমানা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা টার্নওভারের একটি অংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি ছিল কোম্পানিটির প্রথম মামলা এবং ভবিষ্যতে পুনরায় অপরাধ হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশন আরও জানায়, বাজারে একই ধরনের কার্যক্রমে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকতে পারে, যাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে আপিলের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, শুধু জরিমানা নয়, বাজারে স্থায়ী শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ ও কঠোর নজরদারি জরুরি। তাদের মতে, ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় জরিমানার পাশাপাশি আদায় ও শাস্তির বাস্তব প্রয়োগ আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

প্রতিযোগিতা কমিশনের এই পদক্ষেপের ফলে ভোজ্যতেল বাজারে কারসাজি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!