ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সহনীয় রাখতে কয়লা আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর রেয়াত সুবিধার মেয়াদ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লা আমদানিতে শুল্কছাড়ের সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব রাখা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত মূল্যচাপ কমাতে শুল্ক ও কর রেয়াত অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃক আমদানি করা কয়লার ওপর বিদ্যমান শুল্ক-কর সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হলে উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে কম থাকবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ পদক্ষেপ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
নতুন অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।
এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিল্প বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপের ঘোষণা আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লা আমদানিতে শুল্কছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!