যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ৩ আগস্ট ২০২৬,১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাসওয়ার্ড জটিলতায় কুড়িগ্রাম হাসপাতালে পড়ে আছে কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৩ PM

১১
পাসওয়ার্ড জটিলতায় কুড়িগ্রাম হাসপাতালে পড়ে আছে কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম

ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বছরের পর বছর অচল পড়ে আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড না পাওয়ায় এসব যন্ত্র চালু করা যাচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, সরঞ্জামগুলো সচল রয়েছে এমন প্রত্যয়ন দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধের সুপারিশ করা হলেও বাস্তবে অনেক যন্ত্র কখনোই রোগীদের সেবায় ব্যবহার করা হয়নি। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন কক্ষে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ধুলাবালিতে পড়ে আছে। কিছু যন্ত্র বাক্সবন্দি অবস্থায় রয়েছে, আবার কিছু স্থাপন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়নি।

অচল পড়ে থাকা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ইকো ও ইটিটি মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, এন্ডোস্কপি, ডায়াথার্মি, ইনফিউশন পাম্প, সিরিঞ্জ পাম্প, ডেফিব্রিলেটর, পালস অক্সিমিটার, অর্থোপেডিক সেট, আর্থোস্কোপ ও ডপলার হার্ট ডিটেক্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্র।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচির আওতায় ৩২ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৯৩টি চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়। এসব সরঞ্জাম সরবরাহের দায়িত্ব পায় মেসার্স মাইক্রো ট্রেডার্স ও হারামান এন্টারপ্রাইজ।

পরবর্তী সময়ে ১৭২টি সরঞ্জামের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১১ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। তবে অনেক যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হলেও সেগুলো সচল দেখিয়ে অবশিষ্ট বিল পরিশোধের সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে সরঞ্জামের কার্যকারিতা যাচাই করতে ২০২৫ সালের আগস্টে একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, কিছু সরঞ্জাম যেমন এসি ও ফ্রিজ ব্যবহার করা হলেও ইকো, ইটিটি ও পোর্টেবল এক্স-রের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র স্থাপনের পর আর চালু হয়নি। ফলে সরকারি হাসপাতালে কম খরচে পাওয়া সম্ভব এমন পরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে।

রোগীরা বলছেন, হাসপাতালে এসব পরীক্ষা না হওয়ায় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

চিলমারী থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, সরকার এত টাকা খরচ করে যন্ত্র দিয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ এর সুবিধা পাচ্ছে না। পরীক্ষা করাতে বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নূরে নেওয়াজ আহমেদ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বকেয়া বিল না পাওয়ায় যন্ত্রপাতির পাসওয়ার্ড দিচ্ছে না। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত যন্ত্রপাতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!