ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় ভারতীয় সংগীতশিল্পী অনুপম রায়ের নির্ধারিত কনসার্ট আবারও বাতিল হওয়ায় সংগীতপ্রেমী, আয়োজক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক আতিফ আসলামের কনসার্ট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও অনুপম রায়ের অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় অনেকেই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইছেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা অনুপম রায়ের কনসার্টের অনুমতি অনুষ্ঠানের মাত্র দুই দিন আগে বাতিল করে। সরকারি নোটিশে শুধু "অনিবার্য কারণ" উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এটি ছিল অনুপম রায়ের কনসার্ট বাতিলের দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে জুন মাসেও একই ধরনের পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি স্থগিত হয়েছিল। পরে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলেও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে আবারও আয়োজনটি বাতিল হয়ে যায়।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, ভেন্যু বুকিং, শিল্পীর সম্মানী, সাউন্ড সিস্টেম, প্রচারণা, হোটেল ও ভ্রমণ ব্যয়সহ দুই দফায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়েছে। শেষ মুহূর্তে অনুমতি বাতিল হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।
অনুষ্ঠানের জন্য হাজারের বেশি দর্শক আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন। ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও অনেকেই কনসার্টে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রয় করা সব টিকিটের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, কয়েক দিন আগেই ঢাকায় পাকিস্তানি শিল্পী আতিফ আসলামের কনসার্ট সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে দুই বিদেশি শিল্পীর ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, যদি কোনো বিশেষ কারণ থেকে থাকে, তাহলে সেটি স্পষ্টভাবে জানানো উচিত ছিল।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের সদস্য হামিন আহমেদও শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্তকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এমন সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ পরিষ্কারভাবে জানানো হলে বিভ্রান্তি ও জল্পনা কমে যেত।
অনুপম রায়ের ব্যবস্থাপনা দলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, শিল্পীর ভিসা, বিমান টিকিট এবং সফরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো কারণ তাদের জানানো হয়নি।
এদিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে সংগীত অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন—ভবিষ্যতে বিদেশি শিল্পীদের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হবে এবং এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আসবে কি না।
অনুপম রায় আতিফ আসলাম
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!