ছবি : সংগৃহীত
সকালের শুরুটা কেমন হবে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে পুরো দিনের কর্মক্ষমতা, মনোযোগ ও মানসিক অবস্থার ওপর। একটি স্বাস্থ্যকর সকালের রুটিন শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। তবে অজান্তেই কিছু অভ্যাস আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু অভ্যাস নিয়মিত করলে ক্লান্তি, অস্থিরতা ও মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই দিনের শুরুতে এসব অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
১. বারবার স্নুজ বাটনে চাপ দেওয়া
অ্যালার্ম বাজার পর আরও কয়েক মিনিট ঘুমানোর জন্য অনেকেই বারবার স্নুজ বাটন ব্যবহার করেন। কিন্তু এই অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ঘুমচক্র ব্যাহত করতে পারে। এতে ঘুম থেকে ওঠার পরও অলসতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বিছানা ছাড়ার অভ্যাস তৈরি করা ভালো।
২. ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখা
সকালে চোখ খোলার পরপরই মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইমেইল চেক করার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। তবে দিনের শুরুতেই অতিরিক্ত তথ্য গ্রহণ মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
এর পরিবর্তে সকালে কিছুক্ষণ নিজের জন্য সময় রাখা, পানি পান করা, হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করা শরীর ও মনকে ভালো রাখতে সহায়তা করে।
৩. সকালের নাস্তায় বেশি চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া
সকালের খাবারে অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয় বা চিনিযুক্ত খাবার দ্রুত শক্তি দিলেও পরে ক্লান্তি তৈরি করতে পারে। রক্তে শর্করার ওঠানামার কারণে ক্ষুধা ও মেজাজে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
সকালের নাস্তায় প্রোটিন, ফলমূল ও পুষ্টিকর খাবার রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
৪. ত্বকের যত্নে অবহেলা করা
অনেকে রাতে মুখ পরিষ্কার করার পর সকালে আর ত্বকের যত্ন নেন না। তবে ঘুমের সময় ত্বকে জমে থাকা ঘাম, ধুলো ও ময়লা পরিষ্কার করা জরুরি।
সকালে মুখ পরিষ্কার করার পাশাপাশি বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও ত্বক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৫. মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ না দেওয়া
ব্যস্ততার কারণে অনেকেই দিনের শুরুতেই কাজের চাপ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে মানসিক চাপ বাড়তে পারে এবং সারাদিনের মেজাজেও প্রভাব পড়তে পারে।
সকালে কিছুক্ষণ নীরবে থাকা, গভীর শ্বাস নেওয়া, মেডিটেশন করা বা ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে পারে।
স্বাস্থ্যকর কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তুললেই সকালের সময় আরও সুন্দর ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। দিনের শুরুতে নিজের যত্ন নেওয়ার এই ছোট পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!