প্রতিদিনের খবরের পাতায় যুদ্ধ, সহিংসতা, অনাহার বা নানা মানবিক বিপর্যয়ের গল্প মানুষকে ভেতর থেকে নাড়া দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যক্তিগত জীবনের চাপ কাজের ঝামেলা, পারিবারিক টানাপোড়েন কিংবা সম্পর্কের জটিলতা। সব মিলিয়ে মন অনেক সময় অকারণেই ভারী হয়ে ওঠে। মানসিক শান্তি ধরে রাখতে চেষ্টা থাকলেও নতুন নতুন দুশ্চিন্তা বা ক্ষোভ যেন বারবার জমতে থাকে।
এমন অবস্থায় আবেগগত বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু ছোট কিন্তু সচেতন অভ্যাস কঠিন সময় পার করতে বড় সহায় হতে পারে।
জীবনের এমন অস্বস্তিকর মুহূর্ত সামলানোর তিনটি মানবিক ও বাস্তবসম্মত কৌশল তুলে ধরা হলো।
প্রথম উপায়টি হলো নিজের জন্য একটি ব্যক্তিগত দৈনন্দিন রিচুয়াল তৈরি করা। এটি খুব জটিল কিছু হওয়ার দরকার নেই। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কয়েক মিনিট নিজের সঙ্গে থাকার অভ্যাসই যথেষ্ট। চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নেওয়া, মনের ভেতর জমে থাকা কষ্ট বা ক্ষোভকে কল্পনায় আলাদা করে রাখা এবং সেটি ছেড়ে দেওয়ার অনুভূতি তৈরি করা এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ছোট আচার মানুষের ভেতরের চাপ হালকা করে এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। দিনের শুরুতে এমন অভ্যাস থাকলে পুরো দিনটাই তুলনামূলক শান্ত থাকে।
দ্বিতীয় উপায়টি শুনতে অদ্ভুত লাগলেও অত্যন্ত কার্যকর, আর তা হলো ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু না করা। ব্যস্ত জীবনে মানুষ সব সময় সমাধান খুঁজতে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু কখনও কখনও কিছুক্ষণ থেমে যাওয়া প্রয়োজন। আরাম করে বসে চোখ বন্ধ করে কয়েক মিনিট নিজের চিন্তা ও অনুভূতিগুলোকে আসতে দেওয়া হয়, থামানোর চেষ্টা করা হয় না। কেবল সেগুলো লক্ষ্য করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, চিন্তার সঙ্গে লড়াই না করে তাকে যেতে দিলে মানসিক উত্তেজনা দ্রুত কমে আসে। অনেক সময় মাত্র কয়েক মিনিটেই রাগ বা বিরক্তির তীব্রতা হারিয়ে যায়।
তৃতীয় উপায়টি হলো শরীরকে কাজে লাগিয়ে উদ্বেগ কমানো। বর্তমানে বহুল পরিচিত ইএফটি বা আকুপ্রেশার ট্যাপিং পদ্ধতিতে মাথা ও শরীরের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে হালকা চাপ বা টোকা দেওয়া হয়। এতে স্নায়ুর ওপর চাপ কমে এবং মন ধীরে ধীরে শান্ত হয়। মাথার ওপর, কপালের মাঝখানে, নাক ও ঠোঁটের নিচে এবং বুকের মাঝামাঝি কয়েক সেকেন্ড করে চাপ দিলেই অনেকের অস্বস্তি কমে আসে। ব্যস্ততার মধ্যেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, কারণ এতে সময় লাগে খুবই কম।
এই সহজ কৌশলগুলো নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হলে মানসিক চাপ জমে থাকার সুযোগ কমে যায়। নেতিবাচক অনুভূতিকে চেপে না রেখে সচেতনভাবে সামলাতে পারলে জীবন অনেকটাই হালকা লাগে। আবেগগত বুদ্ধিমত্তার চর্চা মানুষকে শুধু কঠিন সময় পার করতেই সাহায্য করে না, বরং প্রতিদিনের জীবনকে আরও স্থির, সুস্থ ও অর্থবহ করে তোলে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!