যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১ আশ্বিন ১৪৩৩

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১,৫০০ কোটি টাকার ঋণ, গ্রাহক পর্যায়ে সুদ ৬ শতাংশ

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ PM
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১,৫০০ কোটি টাকার ঋণ, গ্রাহক পর্যায়ে সুদ ৬ শতাংশ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের প্রতীকী ছবি; ছবি: সংগৃহীত

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। এ অর্থ দিয়ে গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা যাবে। গ্রাহক পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ এ ঋণের সর্বোচ্চ কার্যকর বার্ষিক সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের রাজস্ব নীতি-১ শাখা থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক পরিপত্রে কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব আনারুল কবির। সরকারি পর্যায়ে ঋণের সুদহার হবে ০.৫ শতাংশ।

সরকারের এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ কমিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০-এর লক্ষ্যের সঙ্গেও কর্মসূচিটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ঋণের আওতায় নেট মিটারিং সংযোগসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করা যাবে। পাশাপাশি সোলার হোম সিস্টেম, শিল্পকারখানার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচপাম্প, ইনভার্টার, মিটার এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার জন্যও এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

কর্মসূচির অর্থায়ন ও ঋণ বিতরণে অংশ নেবে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। তিন প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অর্থ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএসএমই) খাতের জন্য রাখা ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের মধ্য থেকে পুনর্বিন্যাস করে ১ হাজার কোটি টাকা এ কর্মসূচিতে দেওয়া হবে। অবশিষ্ট ৫০০ কোটি টাকা আসবে সরকারের পরিচালন ঋণ থেকে।

সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ছাড় করা হবে। ঋণের মোট মেয়াদ ১০ বছর। এর মধ্যে প্রথম এক বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। এই সময় ঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত থাকবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হলে নির্ধারিত কিস্তিতে আসল ও সুদ পরিশোধ করতে হবে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি অথবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারবে। তবে কোনো গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সেই ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।

ঋণের অর্থ নির্ধারিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না। পুরোনো ঋণ পরিশোধ, এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, প্রশাসনিক ব্যয় কিংবা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তরে এ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

ঋণ বিতরণের আগে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ঋণনীতি ও গ্রাহক নির্বাচনের মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। গ্রাহক পরিচিতি বা কেওয়াইসি এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন মোকাবিলাসংক্রান্ত (এএমএল/সিএফটি) আইনও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন প্রতিষ্ঠানকেই পৃথক ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। পাশাপাশি পর্ষদ অনুমোদিত পরিচালন পরিকল্পনা এবং ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এমআইএস) চালু করতে হবে। প্রতিটি ঋণের জন্য আলাদা আইডেন্টিফায়ার নম্বর রাখার পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ করতে হবে।

কর্মসূচির হিসাব যাচাইয়ে প্রতিবছর স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষা করতে হবে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি তিন মাস পর ঋণ বিতরণ ও আদায়ের অগ্রগতি জানাতে হবে। অর্থবছর শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদনও জমা দিতে হবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, এটি জারির ৩০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মসূচির নির্দেশিকা ও ঋণনীতি অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। জনস্বার্থে জারি করা পরিপত্রটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থনীতি সৌরবিদ্যুৎ সোলার হোম সিস্টেম ঋণ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!