যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

মক্কার কাছে হুথি ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ PM ৫২
মক্কার কাছে হুথি ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

মক্কার কাছে হুথি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট; ছবি: সংগৃহীত

মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বুধবার জানান, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ড্রোনটি পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ভূপাতিত করে।

আল-মালিকির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুলাইয়ের পর মক্কাকে কেন্দ্র করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় হামলার প্রচেষ্টা। তবে সৌদি জোটের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি কর্তৃপক্ষ।

হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ সৌদি পক্ষের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন। হুথি নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবা তার এ বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

এদিকে গত কয়েক দিনে সৌদি আরবে হুথিদের একাধিক হামলার খবর সামনে এসেছে। সোমবার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করে হুথিরা। তাদের বক্তব্য, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব আক্রমণ চালানো হয়েছে। সৌদি জোটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।

এর আগে শুক্রবার সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার জন্য ইরানপন্থী একটি ইরাকি গোষ্ঠীকে দায়ী করে। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন সৌদি আরবের উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্রগুলোকে লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর তেল রপ্তানির বিকল্প রুট হিসেবে পাইপলাইনটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

হামলার পর থেকে পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে পাইপলাইনটি কবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সময়সূচি দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট মঙ্গলবার বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে সেখানে অপরিশোধিত তেল পরিবহন পুনরায় শুরু হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার কারণে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্টতা আরও বাড়ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূলে বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে হুথিদের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টিও সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প পথ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সৌদি আরব। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধবিরতির কারণে সংঘাত তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও চলতি মাসে ইয়েমেন সরকারের সমর্থক বাহিনীর বিরুদ্ধে হুথিদের নতুন অভিযান ঘিরে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়েছে।

এরই মধ্যে গত সপ্তাহে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সামরিক সহায়তার অনুরোধ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রধানত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মধ্যেই সীমিত রয়েছে।

মক্কা সৌদি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!