যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,১ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রিকসে প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়ার পর আদানির বিদ্যুৎ বন্ধকে ‘কূটকৌশল’ বললেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ PM | সর্বশেষ আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ PM ১১
ব্রিকসে প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়ার পর আদানির বিদ্যুৎ বন্ধকে ‘কূটকৌশল’ বললেন রিজভী

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী; ছবি: সংগৃহীত

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের ঘটনাকে ‘কূটকৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরদিনই ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধের কথা জানানো হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে যে অবস্থানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, সেটি তিনি যথাযথ মনে করেননি। রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণে সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকসে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরদিন আদানি পাওয়ার তাদের একটি ইউনিটে সমস্যার কথা জানায়। তাঁর অভিযোগ, ভারতের ঝাড়খণ্ডে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ ব্যবহার করে বাংলাদেশকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ইউনিট ১১ সেপ্টেম্বর কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর ওই ইউনিট আবার চালু হয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। তাই রিজভীর রাজনৈতিক অভিযোগের সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির তথ্যকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

সমাবেশে রিজভী ভারতের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের ফেরত চাইলেও ভারত তা করছে না। তিনি এ ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুতর রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।

দেশের বর্তমান গ্যাস ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিদ্যমান সংকট শুধু সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার কারণে তৈরি হয়নি; তাঁর মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার প্রভাবও এতে রয়েছে।

রিজভী বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আনার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিল্প ও আবাসিক পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়।

দেশের অর্থনীতি নিয়েও সরকারের পক্ষে বক্তব্য দেন তিনি। রিজভীর দাবি, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও রেমিট্যান্স বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে বিরোধী দলের মতপ্রকাশের সুযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রিজভী। তাঁর ভাষ্য, সরকারের সমালোচনা করলেও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহ্য নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদ মধুর স্মৃতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো স্থাপনা বা ঐতিহ্য পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহসভাপতি কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন, আনিসুজ্জামান খোকন, মেজর (অব.) মিজানসহ সংগঠন দুটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!