গল্পের আলোকে প্রতীকী ছবি।
শহরের নাম ছিল অরণ্যপুর।
নামটা যতটা শান্ত শোনাত, বাস্তবতা ততটাই অশান্ত ছিল।
শেষ সাত দিনে শহরের প্রতিটি কোণায় একটাই খবর ছড়িয়ে পড়েছে—
স্কুলপড়ুয়া শিশুরা নিখোঁজ হচ্ছে।
প্রথমে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। ভেবেছিল, হয়তো পারিবারিক সমস্যা, হয়তো পালিয়ে যাওয়া।
কিন্তু যখন তৃতীয় শিশুটির স্কুলব্যাগ নদীর ধারে পাওয়া গেল, তখনই শহর কেঁপে উঠল।
নদীর বাতাস সেই দিন অস্বাভাবিক ভারী ছিল।
পুলিশ অফিসার নাঈম দাঁড়িয়ে ছিল ঘটনাস্থলে।
তার চোখ শান্ত, কিন্তু ভেতরে অস্থির ঝড়।
সে ছোট ছোট জিনিস খুঁজছিল—একটা সূত্র, একটা ভুল, কিছু একটা যা অপরাধী ফেলে গেছে।
কিন্তু কিছুই নেই।
শুধু একটি জিনিস ছিল—
একটি লাল বেলুনের টুকরো।
নাঈম সেটি হাতে তুলে নিল।
তার মুখ কঠিন হয়ে গেল।
"লাল বেলুন… আবার?"
এর আগেও একই ধরনের জিনিস পাওয়া গেছে।
প্রতিটি নিখোঁজ ঘটনার পর—
স্কুলের আশেপাশে কেউ একজন লাল বেলুন বিক্রি করত।
আর শিশুরা… সেটার দিকে আকৃষ্ট হতো।
কিন্তু সেই লোকটাকে কেউ পরিষ্কারভাবে দেখেনি।
সব বর্ণনা আলাদা।
কারও মতে লম্বা মানুষ, কারও মতে খাটো, কারও মতে হাসিমুখে থাকা এক ম্যাজিশিয়ান।
সেই রাতেই পুলিশ স্টেশনে খবর এল—
আরেকটি শিশু নিখোঁজ।
নাঈম দৌড়ে বেরিয়ে গেল।
গন্তব্য—একটি পুরনো স্কুল।
স্কুলের গেট খোলা।
ক্লাসরুম ফাঁকা।
কিন্তু ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে লেখা ছিল—
“সে আসবে গভীর রাতে।”
নাঈমের বুকের ভেতর একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল।
এই প্রথম খুনি নিজের উপস্থিতির ঘোষণা দিচ্ছে।
কিন্তু কেন?
ভয় দেখাতে?
নাকি খেলতে?
হঠাৎ পিছন থেকে একজন কনস্টেবল বলল,
"স্যার… সিসিটিভিতে কিছু ধরা পড়েছে।"
স্ক্রিনে ভেসে উঠল ফুটেজ।
স্কুলের সামনে একজন মানুষ।
কালো কোট।
মাথায় টুপি।
হাতে লাল বেলুন।
সে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসল।
তারপর বেলুন ছেড়ে দিল।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে—
ভিডিওর আলো ঝাপসা হয়ে গেল।
নাঈম স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
সে বুঝে গেল—
এটা সাধারণ কোনো অপরাধী নয়।
এটা এমন কেউ, যে মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলে।
ভয়কে ব্যবহার করে।
আর শহরকে ধীরে ধীরে নিজের মঞ্চ বানিয়ে ফেলছে।
সেই রাতে নাঈম প্রথমবার তার ছোট বোন নাইশা-কে ফোন করল।
"স্কুলে একা যেও না। অচেনা কারও সঙ্গে কথা বলবে না।"
নাইশা হেসে বলল,
"তুমি কি আমাকে নিয়ে এখনো ছোট বাচ্চা ভাবো?"
নাঈম কিছু বলল না।
শুধু ফোনটা ধীরে রেখে দিল।
তার বুকের ভেতর অজানা অস্বস্তি জমে উঠছিল।
বাইরে তখন হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
শহরের বাতাসে ভেসে আসছে এক অদ্ভুত অনুভূতি—
যেন কেউ খুব কাছেই আছে…
দেখা যাচ্ছে না…
কিন্তু হাসছে।
সায়েন্সফিকশান গল্প
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!