যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদির তিন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২১ PM ৪৩
সৌদির তিন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১৩

সৌদি আরবের তিন শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আভা ও তায়েফ শহরে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোট। সোমবার দিবাগত রাতে চালানো এসব হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন।

হামলার পর সৌদি আরবের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে আভা, জেদ্দা, জাজান, তায়েফ, ইয়ানবু ও আলউলা শহরসহ কয়েকটি এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর অভিযোগ, হুথিরা পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষ এবং আবাসিক এলাকার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক ও সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে জোটটি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত হুথিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকারের খবর পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, এর আগে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক স্থাপনায় সৌদি বিমানবাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের জবাব হিসেবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়ে থাকতে পারে। গত রোববার হুথিদের সামরিক অবস্থানে সৌদি বিমানবাহিনীর ৭০টি বিমান অভিযান চালিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আগস্টের শেষদিক থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে। এরই মধ্যে গত ১১ সেপ্টেম্বর লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বাব এল মান্দেব প্রণালি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার দাবি সামনে আসে। এই জলপথ সৌদি আরবের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে দেশটির বড় অংশের জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়।

গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে এক শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী রাজধানী সানার দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য অভিযান শুরু করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি বিমান হামলা এখন পর্যন্ত মূলত সম্মুখসারিতে থাকা সরকারি বাহিনীকে সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সানা কিংবা হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে সরাসরি বড় ধরনের হামলা চালানো হয়নি।

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার বিরোধের শিকড় ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে। ২০১৪ সালে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর হুথিরা দেশটির বিভিন্ন এলাকা দখলে নেয়। পরের বছর, ২০১৫ সালে তারা রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি আরব।

বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে দেশের বাকি অংশ আন্তর্জাতিক সমর্থনপুষ্ট প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সামরিক সংঘাত বাড়ায় ইয়েমেনের সংকট আরও বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!