ছবি:সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, কো-পাইলট ককপিটে থাকা ক্যাপ্টেনের ওপর ছুরি দিয়ে নয়, একটি ক্র্যাশ কুড়াল দিয়ে হামলা করেছিলেন। এ ঘটনায় বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। পরে বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত দেওয়া হয়।
হামলায় আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার জানান, আঘাতের পর তিনি ককপিটের মেঝেতে পড়ে যান। বিমান নিচের দিকে নামতে থাকায় তিনি ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে যাত্রীরা ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে বিমানে থাকা দুই রিজার্ভ পাইলট দায়িত্ব নেন এবং উড়োজাহাজটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান।
এক যাত্রী জানান, বিমানটি হঠাৎ রোলার কোস্টারের মতো দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেছিল। কয়েক সেকেন্ড ধরে তীব্র চাপ অনুভূত হওয়ার পর বিমানটি কিছুটা স্থির হলেও আবার নিচের দিকে নামতে থাকে। এ সময় যাত্রীরা ককপিটের দিকে ছুটে যান।
আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে আবুধাবিতে নেওয়া হয়। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ঘটনার সময় কয়েকজন যাত্রী ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের বক্তব্য অনুযায়ী, ককপিট থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শোনার পর একজন যাত্রী প্রথমে সতর্কতা জারি করেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন যাত্রী মিলে কো-পাইলটকে কাবু করেন। পরে তাকে বেঁধে ফেলা হয় এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ পাইলটদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ ও হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামলাকারী কো-পাইলট ওমানের নাগরিক ছিলেন। হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তিনি ক্রুদের উদ্দেশে আত্মহত্যার ইচ্ছার কথা বলেছিলেন বলে নেতানিয়াহুর দাবি।
ঘটনার পর বিমানটির যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হলেও যাত্রীদের সহায়তা এবং বিকল্প পাইলটদের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।
ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!