যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ-চীন: দ্রুত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৩ PM | সর্বশেষ আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ PM ৩২
বাংলাদেশ-চীন: দ্রুত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপের উদ্যোগ

ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে শিগগিরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ আয়োজন করতে চায়। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয়েও দুই দেশ আলোচনা করেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি তৈরি হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে ‘চীন-বাংলাদেশ যৌথ ভবিষ্যতের কমিউনিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করার উদ্যোগেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণ করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

চীনের নির্বাহী উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও হুমায়ুন কবিরকে শুভেচ্ছা জানান ইয়াও ওয়েন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন অগ্রগতি তুলে ধরেন চীনা রাষ্ট্রদূত।

তিনি জানান, সফরের ধারাবাহিকতায় ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি এবং মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয় এগিয়েছে।

চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হতে পারে। সেখানে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় ১ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার নিয়ে সহযোগিতা।

এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষ।

বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানি শুরুর প্রক্রিয়া, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফর ও প্রতিনিধিদল বিনিময় নিয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

রাষ্ট্রদূত জানান, চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ভাইস গভর্নরের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে চলতি বছরের অক্টোবরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বাংলাদেশ চীন সম্পর্ক বাংলাদেশ চীন কৌশলগত সংলাপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!