তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার ২৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের আলোকে আয়োজিত সভাটি জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নদীভাঙন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও সার সরবরাহসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ জেলার পরিস্থিতি তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী তা শোনেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দিকনির্দেশনা দেন।
মীর শাহে আলম বলেন, জেলার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কোনো জরুরি বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সামনে এলে তা দ্রুত তাকে অবহিত করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের নিয়মিতভাবে সব উপজেলা পরিদর্শনের পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।
কুড়িগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বয় আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার প্রতিনিধিদেরও আইনশৃঙ্খলা সভায় সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রমের বিষয়টিও উঠে আসে। কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে এবং মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জুয়া নিয়ন্ত্রণেও নতুন আইন অনুযায়ী মামলা ও প্রয়োজন অনুসারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা জানানো হয়।
এ ছাড়া গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সঠিক তথ্য দ্রুত প্রচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নদীভাঙনসহ স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং খাল খনন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দিতে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম সংকট যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী শূন্য পদে দ্রুত ডিলার নিয়োগে জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জেলার পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সমন্বিতভাবে কাজ করলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা সম্ভব বলে মন্তব্য করে মীর শাহে আলম জানান, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখতে তিনি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো সফর করবেন। সেখানে উন্নয়ন প্রকল্প ও জনসেবার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করার কথাও জানান তিনি।
সভায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানসহ তিন জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং রংপুর বিভাগের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মীর শাহে আলম
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!