যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

২০২৭ সালেও কাটতে নাও পারে বৈশ্বিক ডিজেল সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩২ PM ৪৯
২০২৭ সালেও কাটতে নাও পারে বৈশ্বিক ডিজেল সংকট

আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও মজুত সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা; ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষক ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজেলের মজুত কমে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

ডিজেলের সংকট শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পণ্য পরিবহন, কৃষিকাজ, নির্মাণ ও শিল্প উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাত এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ের পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতির চাপ বিশেষভাবে দৃশ্যমান। চলতি সেপ্টেম্বরেই দেশটিতে খুচরা পর্যায়ে ডিজেলের দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। এর ফলে কৃষক ও ট্রাক পরিবহন ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং পরিবহন খাতে এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে।

মজুতের পরিসংখ্যানও সংকটের গভীরতা তুলে ধরছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিজেলের মজুত কমে ১০৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছে, যা বছরের এই সময়ের জন্য ১৯৮২ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর সর্বনিম্ন। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ইআইএ বছরের বাকি সময়জুড়ে মজুত তুলনামূলক নিচু থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে।

উত্তর আমেরিকার স্টোরেজ বাজারেও সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। স্টোরেজ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান দ্য ট্যাংক টাইগারের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের জন্য উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইজারাযোগ্য ডিজেল সংরক্ষণ সক্ষমতা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। এর একটি কারণ হিসেবে বাজারে সংরক্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় পরিশোধনকারী ও ব্যবসায়ীদের নতুন স্টোরেজ চুক্তি নবায়নে অনাগ্রহের কথা উঠে এসেছে।

ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও সরবরাহ ঘাটতির চাপ রয়েছে। সংঘাতের কারণে রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহে বাধা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার পরিশোধন সক্ষমতার ওপর হামলা ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব জ্বালানি রপ্তানিতেও চাপ তৈরি করছে।

তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। চীন আগস্টে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি বাড়িয়েছে এবং ডিজেল রপ্তানিও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বাড়তি রপ্তানি এবং পরিশোধন খাতে উচ্চ মুনাফা কিছুটা সরবরাহ বাড়াতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

তারপরও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা বড় কোনো শোধনাগারে আকস্মিক বিপর্যয় ঘটলে বাজারে আবারও সরবরাহ সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও চলতি বছরের বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছে এবং বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দেরি হলে বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত ডিজেলের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খাতে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় মূল্যস্ফীতি ও ব্যবসায়িক ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তবে সংঘাতের গতিপথ, রিফাইনারির উৎপাদন পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ স্বাভাবিক হওয়ার ওপর নির্ভর করবে সংকটটি কতটা দীর্ঘায়িত হয়।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!