বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজে বিক্ষোভরত খনি শ্রমিকরা। ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ Bolivia-তে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে খনি শ্রমিকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। রাজধানী La Paz-এ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট Rodrigo Paz-এর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকা প্লাজা মুরিয়োতে প্রবেশের চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের দিকে ডিনামাইট সদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
স্থানীয় খনি শ্রমিকরা জ্বালানি ও বিস্ফোরক সরবরাহে সহজ প্রবেশাধিকার, বিদ্যমান খনি চুক্তির পরিবর্তন এবং নতুন খনি আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের সঙ্গে কৃষক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
দেশটিতে চলমান ডলারের সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি উৎপাদন কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে।
বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সরাসরি প্রেসিডেন্ট Rodrigo Paz-এর পদত্যাগ দাবি করেছে। মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া এই প্রেসিডেন্ট গত নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে ক্ষমতায় আসেন। তিনি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাজারমুখী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে। এরই মধ্যে জ্বালানি ভর্তুকি এবং কৃষি সংস্কার আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধিতার মুখে সরকার একটি বিতর্কিত আইনও বাতিল করেছে।
সংঘর্ষ শুরুর আগে প্রায় ২০ জন খনি শ্রমিকের একটি প্রতিনিধি দল প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করে সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় কয়েকজন মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
দেশটির অর্থমন্ত্রী Jose Gabriel Espinoza বলেন, সরকার সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে চায়।
গত কয়েক দিনে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের কারণে খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। মহাসড়কে হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রয়েছে।
সরকারের অভিযোগ, বিরোধী দল এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট Evo Morales এই বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছেন। যদিও মোরালেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সমাধান না এলে Bolivia আরও বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!