যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ PM ৭০
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পরের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলার লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার ঘটনায় কারণ ও সম্ভাব্য গাফিলতি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগের দিনের আগুনের ঘটনা কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করবে কমিটি।

তদন্ত দলের নেতৃত্বে রয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়া। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান। এছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি কমিটিতে রাখা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করে লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার ঘটনায় কারও দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। তদন্তে দায় বা অব্যবস্থাপনার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিষয় চিহ্নিত করে সুপারিশ দেওয়া হবে। তদন্ত চলাকালে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এলে সেটিও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগে। ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানিয়েছিলেন, লিফট কন্ট্রোল রুমে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনের পর ভবনের ভেতরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সিঁড়িতে ব্যাপক ভিড় ও হুড়োহুড়ি হয়। হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির মধ্যে একটি বন্ধ থাকায় একটি সিঁড়ি ব্যবহার করে নিচে নামার সময় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানান বিভাগীয় কমিশনার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পর ছয়জন নিহত হওয়ার খবরও ছড়িয়ে পড়ে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বার্তায় হাজেরা বেগম, শাহজাহান, রমজান, জাহানারা, কুলসুমা এবং এক অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। তবে পরে প্রশাসনের বক্তব্যে এ বিষয়ে ভিন্নতা দেখা দেয়।

রাত ১টার দিকে বিভাগীয় কমিশনার এসএম হুমায়ূন কবির সরকার সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারও মৃত্যুর প্রমাণ প্রশাসনের হাতে নেই। তবে আগুনের পর বের হওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হওয়ার বিষয়টি তিনি জানান। কারও হাত-পা কেটে যাওয়া বা মাথায় আঘাত পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ধোঁয়ার কারণে কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তখন নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!