যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১,২৯৩

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ PM ৬৪
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১,২৯৩

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটকদের থানায় নেওয়া হচ্ছে। সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে তিন দফায় ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে। সর্বশেষ রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার ভোররাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ অভিযানে আটক করা হয় ৪১৫ জনকে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে এমন এলাকা, কিশোরদের আড্ডাস্থল এবং অপরাধপ্রবণ বিভিন্ন স্থানে সর্বশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধারাবাহিক অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু হয় গত বুধবার রাতে। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। পরে শনিবার রাতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫৪ জন আটক হন। সর্বশেষ ৪১৫ জন যুক্ত হওয়ায় তিন দফায় মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৩ জনে।

প্রথম অভিযানে আটক ৬২৪ জনের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় আটক ২৫৪ জনের মধ্যে ১৪৬ জনকে মুচলেকার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি ১০৮ জনের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক কেনাবেচা ও সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তা যাচাই করছে পুলিশ। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি রয়েছে এমন স্থান, কিশোরদের আড্ডা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে কুমিল্লার মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে এবং অপরাধপ্রবণতাও কমছে বলে তিনি জানান। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। যাচাই শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উঠতি বয়সী তরুণরা যেন অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাং, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!