যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

দ্রুত খাবার খাওয়ার পেছনে যেসব মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকতে পারে

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০২ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ PM ৯৭
দ্রুত খাবার খাওয়ার পেছনে যেসব মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকতে পারে

ছবি: এআই

একই সময়ে খেতে বসেও দেখা যায়, কেউ ধীরে ধীরে খাবার উপভোগ করছেন, আবার কেউ কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্লেট খালি করে ফেলছেন। দ্রুত খাবার খাওয়ার এই অভ্যাসের পেছনে ব্যস্ততা বা অল্প সময়ের লাঞ্চব্রেক যেমন থাকতে পারে, তেমনি দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও কিছু মানসিক কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে শুধু দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস দেখে কারও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মানুষের আচরণ ও ব্যক্তিত্ব অনেক জটিল। একই ধরনের অভ্যাসের পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

যারা দৈনন্দিন কাজ দ্রুত শেষ করতে অভ্যস্ত, তাদের কারও কারও খাবারের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়। কাজ শেষ করে পরবর্তী কাজে চলে যাওয়ার তাগিদ থেকে খাবার উপভোগের বদলে সেটিকে দিনের আরেকটি কাজ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

আবার অপেক্ষা বা ধীরগতির পরিস্থিতি অপছন্দ করার সঙ্গেও দ্রুত খাওয়ার অভ্যাসের যোগ থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানো, ধীরগতির কাজ বা অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা যাদের বিরক্ত করে, তারা খাবারের ক্ষেত্রেও দ্রুত গতি বজায় রাখতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে দ্রুত খাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিই অধৈর্য।

খাওয়ার সময় অন্য কাজে ব্যস্ত থাকাও একটি কারণ হতে পারে। অনেকেই খাবারের পাশাপাশি ফোন দেখা, ই-মেইলের উত্তর দেওয়া বা অফিসের কাজ চালিয়ে যান। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে। ক্ষুধা বা তৃপ্তির অনুভূতির দিকে খেয়াল না রেখে কখন খাবার শেষ করা যাবে, সেদিকে মনোযোগ চলে যেতে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগও খাওয়ার গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। দিনের অন্যান্য কাজ দ্রুত শেষ করার অভ্যাস থাকলে খাবারের সময়ও তাড়াহুড়ো চলে আসতে পারে। অনেক সময় ব্যক্তি সচেতনভাবে দ্রুত খেতে না চাইলেও অভ্যাসের কারণে দ্রুত খাবার শেষ করেন।

খাদ্যসংকট, কঠোর ডায়েট বা অতীতে পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ার অভিজ্ঞতাও কারও খাওয়ার আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। খাবার পরে পাওয়া যাবে কি না, এমন অবচেতন অনিশ্চয়তা থেকেও কিছু মানুষের দ্রুত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

আবেগের সঙ্গেও খাওয়ার আচরণের সম্পর্ক থাকতে পারে। রাগ, হতাশা, একাকীত্ব বা মানসিক অস্বস্তির সময় কেউ কেউ খাবারের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়েন। কিছু ক্ষেত্রে তখন দ্রুত বা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে ঘটে না এবং এমন আচরণকে ব্যক্তিত্বের স্থায়ী বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

দ্রুত খাওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। খাবার গ্রহণের পর তৃপ্তির সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। খুব দ্রুত খেলে শরীরের তৃপ্তির সংকেত স্পষ্ট হওয়ার আগেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এ কারণে খাবারের সময় ফোন বা টেলিভিশনের মতো বিভ্রান্তি কমিয়ে খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও পরিমাণের দিকে মনোযোগ দেওয়া উপকারী হতে পারে। ধীরে খেলে খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার সুযোগও বাড়ে।

তাই প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় খাবারের জন্য আলাদা করে রাখা এবং শরীরের ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত খেয়াল করার অভ্যাস করা যেতে পারে। দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস যদি দীর্ঘদিনের হয়, তাহলে হঠাৎ পরিবর্তনের বদলে ধীরে ধীরে খাওয়ার গতি কমানো এবং খাবারের প্রতি মনোযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা বাস্তবসম্মত পদ্ধতি।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!