যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬,৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

সিলেট-এ সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ, ধর্মঘটে জ্বালানি সংকট ও মহাসড়কে তীব্র যানজট

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৭ PM

৫৬
সিলেট-এ সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ, ধর্মঘটে জ্বালানি সংকট ও মহাসড়কে তীব্র যানজট

ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেটে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, জ্বালানি সংকট ও মহাসড়কে যানজট—কারণ ও সর্বশেষ পরিস্থিতি জানুন।

জরিমানা ও চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) রাত থেকে এই ধর্মঘট কার্যকর হওয়ায় পুরো বিভাগজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতারা এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নামে নিয়মিত জরিমানা করা হচ্ছে, যা তারা ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে জ্বালানি সংকটের প্রতিবাদে পরিবহন খাতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাকচালকরা মাঝ সড়কে ট্রাক ফেলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় তারা আগে থেকেই সংকটে ছিলেন। এর মধ্যে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান, জরিমানা এবং বিভিন্ন শর্ত ব্যবসা পরিচালনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, ডিপোতে অতিরিক্ত নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ তাদের।

ধর্মঘটের পেছনে তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বুধবার দুপুরে নগরের একটি পেট্রোল পাম্পে পরিচালিত যৌথ অভিযান। জেলা প্রশাসন ও র‍্যাবের অভিযানে সরকার নির্ধারিত সীমার বেশি জ্বালানি মজুদের অভিযোগে জরিমানা করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পাম্প মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে।

পরিস্থিতি নিরসনে পাম্প মালিকদের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান আসেনি। পরে জরুরি বৈঠক করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সিএনজি, এলপিজিসহ সব ধরনের জ্বালানি স্টেশন বন্ধ থাকবে। ফলে সিলেটজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে গণপরিবহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট তেল সংকট তেলের পাম্প

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!