হাওরের পানির নিচে ডুবে যাওয়া জমি থেকে ধান সংগ্রহ করছেন কৃষকরা। (সংগৃহীত ছবি)
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ২৯ কৃষকের ৪০০ মণ ধান মওকুফ করেছেন দুই ভাই। মানবিক এই উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছেন তারা।
অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাওর অঞ্চলের কৃষকদের স্বপ্ন এবার যেন পানির নিচেই ডুবে গেছে। বোরো মৌসুমে ব্যাপক ফসলহানির মধ্যে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন MA Kadir ও তার ছোট ভাই MA Matin।
সুনামগঞ্জের Jagannathpur Upazila-এর পিংলার হাওরে তাদের প্রায় ১০০ বিঘা জমি স্থানীয় ২৯ জন কৃষক বর্গা নিয়ে চাষ করেন।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বিঘায় চার মণ করে মোট ৪০০ মণ ধান জমির মালিকদের দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা।
কৃষকদের এই দুর্দশা বিবেচনা করে জমির মালিক দুই ভাই তাদের কাছ থেকে পাওনা পুরো ৪০০ মণ ধান মওকুফ করে দেন।
শনিবার (৯ মে) বিকেলে Jagannathpur Municipality এলাকায় নিজ বাড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে MA Kadir বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের ফসল তুলতে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। তাদের কষ্টের কথা চিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য জমির মালিকরাও যেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ান।
স্থানীয় বর্গাচাষিরা জানান, এমন সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। তারা বলেন, এই সহায়তা তাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস দেবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, হাওরাঞ্চলে এমন মানবিক উদ্যোগ সত্যিই বিরল এবং প্রশংসনীয়।
অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে দুই ভাই এখন এলাকায় মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!