ক্ষমা প্রার্থনার পরও কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার এবং আজীবনের জন্য হলের আবাসিক সুবিধা বাতিল করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম আহমেদকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার হলের আবাসিকতা আজীবনের জন্য বাতিল করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেটের ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ৯০তম সভার সিদ্ধান্ত নং–০৩(ক) অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি গত ১৪ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা হয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না—এই মর্মে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে মুচলেকা প্রদান করতে হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম আহমেদ জানান, “গত বছর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্রীয় ইফতারের টোকেন দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমরা হলের শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করি। আন্দোলনের সময় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। আমি একটি জুতা ছুঁড়েছিলাম, তবে তা কাউকে উদ্দেশ্য করে নয়।”
তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করে এবং আমাকে সেখানে ডাকা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমার উদ্দেশ্য কাউকে আঘাত করা ছিল না। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার সম্মান রয়েছে।”
সুস্পষ্ট অপরাধের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমি শুধু শাস্তিসংক্রান্ত চিঠির বিষয়ে বলতে পারব। বিস্তারিত তথ্য প্রক্টর জানাতে পারবেন। তিনি শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন এবং তদন্ত কমিটিতেও যুক্ত ছিলেন।”
এ বিষয়ে প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। একবার যোগাযোগ হলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গত বছরের ১২ মার্চ হলের ইফতারে ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের টোকেন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ইফতার বয়কটের ডাক দেয় এবং প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলনে নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!