জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে যুবসমাজের সম্ভাবনা ও অবদানের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
দেশের উন্নয়ন, সংকট মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, যুবসমাজই জাতীয় অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শক্তি। তাই আধুনিক শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতীয় সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
বাণীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেওয়া যুব উন্নয়ন উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, জাতি গঠনে তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তাঁর নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে পরিচিতি পায়। তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
প্রধানমন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণী বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁদের মাসিক আয় ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা; কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি।
যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় যুব পুরস্কারের মাধ্যমে জাতি গঠনে অবদান রাখা আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৫৪৬ জনকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি। চলতি বছরের পুরস্কারপ্রাপ্তদেরও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমান বিশ্বে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণেরা অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও বাণীতে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় যুবকেরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিদেশি ভাষা শিক্ষার মতো সম্ভাবনাময় খাতে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এগিয়ে নিতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্ভাবনাময় উদ্যোগ যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ খাতে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় যুব দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় তরুণেরা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ যুবসমাজ
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!