যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে নতুন করে সম্মত হয়েছে। এ সমঝোতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ পদক্ষেপকে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনার পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘর্ষ বন্ধে উভয় পক্ষ কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে। সমঝোতার আওতায় দক্ষিণ লেবাননের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সশস্ত্র তৎপরতা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়। মার্চ মাসে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে শুধু ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন হামলা ও নিরাপত্তা ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর ফলে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এদিকে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটগুলোকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দামও সাম্প্রতিক সময়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর আরও বেড়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই শান্তিতে রূপ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে রাজনৈতিক সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। অন্যথায় যে কোনো সময় নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!