যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ৫ জুন ২০২৬,২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়কে প্রাণ গেল ২৮১ জনের, হতাহত এক হাজার ছাড়াল

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:৫২ PM

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়কে প্রাণ গেল ২৮১ জনের, হতাহত এক হাজার ছাড়াল

ঈদযাত্রায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে দুর্ঘটনার উচ্চ সংখ্যা। ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল আজহার আগে ও পরে ১৩ দিনে দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের সড়কপথে দুর্ঘটনার সংখ্যা ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ঈদের আগে ও পরে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের মোট সংখ্যা এক হাজার ১১৮ জনে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১৩ দিনে ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের প্রায় ৪৪ শতাংশ। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মোটরসাইকেল চালনায় অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি এবং নিরাপত্তা বিধি অমান্যকে এ উচ্চ মৃত্যুহারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৩৭ জন পথচারী এবং ৩৩ জন বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সহকারী রয়েছেন। এছাড়া বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স, থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য স্থানীয় পরিবহনের যাত্রীদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

সড়কের পাশাপাশি নৌ ও রেলপথেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ১৩টি নৌ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ২২টি রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৯ জন।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে ফরিদপুরে সর্বোচ্চ প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। জেলাটিতে ১৯টি দুর্ঘটনায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, দীর্ঘ যাত্রা, বেপরোয়া গতি, ক্লান্ত চালক এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তারা দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর নজরদারি, সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!