যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ১ নভেম্বর ২০২৬,১৬ কার্তিক ১৪৩৩

ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৭ PM ১২
ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের জন্য ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অনুমোদন মিললেও এসব অস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছাতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর বক্তব্য, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে প্যাট্রিয়টের বিকল্প কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিক্রির প্রস্তাবে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির পিএসি-৩ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র, যার মোট মূল্য ২১০ কোটি ডলার। কানাডা ও ইউরোপের মিত্র দেশগুলো এই ব্যয়ের সম্পূর্ণ অর্থ জোগান দেবে। ফলে চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থ ব্যবহার করতে হবে না। কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদানের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সহায়তা ঋণ থেকেও অর্থ আসবে। এ ক্ষেত্রে জাম্পস্টার্ট কর্মসূচি ও জাতীয় তহবিল ব্যবহারের কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

চুক্তির প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এই বিক্রির মাধ্যমে ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি অংশীদার দেশের নিরাপত্তা জোরদার হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্যও এগিয়ে যাবে।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় মার্কিন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইউক্রেনের প্রয়োজন এখনই—কয়েক বছর পর নয়। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুমোদনের জন্য প্রায় এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ। এদিকে দেশটির প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও দ্রুত কমছে।

শীত মৌসুম সামনে রেখে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার হামলা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, গত দুই সপ্তাহে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ৩০টির বেশি হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এসব হামলা মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

তবে ক্ষেপণাস্ত্রের অনুমোদন পাওয়া আর তা হাতে পাওয়া এক বিষয় নয়। বিশ্বজুড়েই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বেশি এবং সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে এই সংকট আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের জন্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিদ্যমান মজুত থেকে দেওয়া হবে না; বরং নতুন করে উৎপাদন করতে হবে। ফলে সরবরাহের সময়সীমা দীর্ঘ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৬০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়। এসব অস্ত্র উৎপাদনে দীর্ঘ সময় লাগে। তবে অনুমোদিত ৫০০ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ও সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন মস্কোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছাতে ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।

গত ২০ অক্টোবর নরওয়ের অসলোতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়। এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরও আগে ক্রিমিয়া এবং পূর্ব ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের কিছু এলাকা দখল করেছিল মস্কো।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের আপত্তি দেখা গেছে। আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার সময় কয়েকজন ইউরোপীয় প্রতিনিধি দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান। বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড লাভরভকে উদ্দেশ করে বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে কে আগ্রাসী, তা সবার জানা। ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার জন্যও তিনি রুশ সরকারকে দায়ী করেন।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুমোদন ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে উৎপাদন সক্ষমতা, বৈশ্বিক চাহিদা এবং সরবরাহের সময়সীমার কারণে কিয়েভের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই সিদ্ধান্ত কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

ইউক্রেন যুদ্ধ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!