যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬,১৯ কার্তিক ১৪৩৩

জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলায় প্রাণ গেল ২৬ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪১ PM ১২
জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ হামলায় প্রাণ গেল ২৬ জনের

ইউক্রেনের কোমিশুভাখা গ্রামে বোমা হামলার পর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীদের তল্লাশি। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে মানবিক সহায়তা বিতরণের জন্য ব্যবহৃত একটি স্থাপনায় রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালালেও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অভিযান বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

সোমবার কোমিশুভাখা গ্রামে অন্তত নয়টি ভারী বোমা নিক্ষেপ করা হয়। প্রতিটি বোমার ওজন ছিল প্রায় তিন হাজার কেজি। আঞ্চলিক প্রশাসনপ্রধান মিখাইলো সেমিকিন জানান, হামলার পর প্রথম দিকে ২৭ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। পরে উদ্ধার তৎপরতার মধ্যে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ও নৃশংস’ আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল একটি স্থানীয় স্কুল, যেখানে মানবিক সহায়তা বিতরণের কার্যক্রম চলছিল। প্রথম দফা হামলার পর মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে গেলে একই স্থানে আবারও আঘাত হানা হয়।

সোমবার রাতে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি জানান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ হয়েছে। এর আগে তিনি ১৮ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী এবং চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনাস্থলে বড় গর্ত ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকর্মীদের অনুসন্ধান করতে দেখা যায়। সেমিকিন বলেন, গ্রামটির ওপর দিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এলাকায় রুশ ড্রোনের উপস্থিতির কারণে কয়েক দফায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে।

জেলেনস্কির দাবি, কোমিশুভাখার বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে ওই কেন্দ্র থেকে মানবিক সহায়তা নিতেন। ফলে কেন্দ্রটির ব্যবহার সম্পর্কে রাশিয়ার অজ্ঞাত থাকার কথা নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এ হামলা সংঘাত প্রশমনে রাশিয়ার অনাগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের যৌথ অভিযানে রুশ-নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকি থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ওই অভিযানের পর শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার একটি সুযোগ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু কোমিশুভাখার হামলা সেই সম্ভাবনার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে।

এ ঘটনার পর মঙ্গলবার পুরো জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে শোক দিবস পালনের ঘোষণা দিয়েছে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ। তবে হামলার বিষয়ে রুশ সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে রুশ হামলার তীব্রতা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সময়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত কমে আসার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থা, উত্তেজনা কমানো, মানবিক সহায়তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা।

ইউক্রেন রাশিয়া জাপোরিঝঝিয়া

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!