টানা বৃষ্টিতে ঢাকার বায়ুমানের উন্নতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানী ঢাকার বায়ুমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দীর্ঘদিন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে থাকা ঢাকা এবার দূষণের শীর্ষ ২০ শহরের তালিকার বাইরে চলে এসেছে। এতে রাজধানীবাসী তুলনামূলক নির্মল বাতাসে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir)-এর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ২২তম। এ সময় রাজধানীর AQI স্কোর ছিল ৮৪, যা ‘মাঝারি’ (Moderate) মানের বায়ু হিসেবে বিবেচিত হয়।
সর্বশেষ তালিকায় সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে রয়েছে কঙ্গোর কিনশাসা, যেখানে বায়ুমানের স্কোর ৩২৪। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উগান্ডার কামপালা, যার AQI স্কোর ২০৭। এই দুই শহরের বায়ুমান জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে বাতাসে ভাসমান ধুলাবালি, ধোঁয়া এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কণার ঘনত্ব কমে যাওয়ায় ঢাকার বায়ুমানের উন্নতি হয়েছে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুদূষণের মাত্রাও ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে আইকিউএয়ারের তালিকায় ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ুমানের শহরের মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। এছাড়া ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে ভারতের দিল্লি, বাহরাইনের মানামা, ইসরায়েলের জেরুজালেম ও তেল আবিব, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস, সল্ট লেক সিটি, ডেনভার এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, AQI স্কোর ০–৫০ হলে বায়ুর মান ভালো, ৫১–১০০ হলে মাঝারি, ১০১–১৫০ হলে সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১–২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১–৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরিবেশবিদদের মতে, বর্ষার কারণে সাময়িকভাবে বায়ুমানের উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে নির্মাণকাজের ধুলা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের ধোঁয়া কমানো এবং শিল্পকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঢাকার বায়ুদূষণ আবারও বেড়ে যেতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!