ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছে আইজেনকোটের নতুন রাজনৈতিক দল ইয়াশার।
২০২৫ সালে গঠিত ইয়াশার দলটি ইসরায়েলের রাজনীতিতে দ্রুত প্রভাব বিস্তার করছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ১২০ আসনের নেসেটে আইজেনকোটের দল ২৩টি আসন পেতে পারে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ২২টি।
জরিপে আরও দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেন গাদি আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে উপযুক্ত মনে করেন ৩৪ শতাংশ ভোটার।
আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইজেনকোট তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় ১০ দফা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা, সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন।
নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ওই হামলার আগে গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানালেও সরকার রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত তদন্ত প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
আইজেনকোট বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং স্বাধীন গণমাধ্যম রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ভবিষ্যৎ সমাধান নিয়ে তাঁর অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়; বরং ২০২৩ সালের হামলা, গাজা যুদ্ধ এবং দেশের নিরাপত্তা নীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও ভোটারদের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটাবে।
ইসরায়েল নির্বাচন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!