যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু ১ হাজার ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ PM ১১৪
নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে মৃত্যু ১ হাজার ছাড়িয়েছে

ছবি: রয়টার্স

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ৪ হাজার ৪৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের পর থেকে উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে চীনের তিব্বত অংশে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন।

নেপালে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মী আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারী কাদামাটির স্তরে প্রকল্পটির স্থাপনা ঢেকে যাওয়ায় সেখানে কর্মরত প্রায় ৯০০ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

দুর্যোগের কারণে দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকারী দল অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক দিন পানিতে থাকার কারণে অনেক মরদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভরতপুরে উদ্ধার হওয়া মরদেহ শনাক্ত এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি অস্থায়ী সমন্বয় কেন্দ্র পরিচালনা করছেন নেপাল পুলিশের উপপরিদর্শক হরি শরণ ঢাকল। তার কাছে নিখোঁজ ৮৩৭ জনের একটি তালিকা রয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। তবে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়া মরদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষকে গণকবরে দাফনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্যোগের মধ্যে উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন ও উদ্ধারকারী পাইলট প্রিয়া অধিকারী। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধারে তিনি প্রায় ১০০টি মিশনে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে বন্যায় ভেসে যাওয়ার পর পাঁচ বছর বয়সী মনীষা মাগারকে মৃত বলে ধরে নিয়েছিলেন অনেকে। পরে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলে পরিবারের সদস্যরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সেই মুহূর্তের সাক্ষী হন।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও চীনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও মরদেহ শনাক্তের কাজও চলছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!